৮ মে : কাল, শনিবার কলকাতায় আসছেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ২৩ জন মুখ্যমন্ত্রী! ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা তাঁদের।
বাংলায় এই প্রথম সরকার গড়তে চলেছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং–সহ আরও একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তো থাকবেনই। তাঁদের পাশাপাশি হাজির থাকবেন এই মুখ্যমন্ত্রীরা। এঁরা সকলেই জ়েড প্লাস সিকিউরিটির ঘেরাটোপে থাকেন। পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের মতে, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে এত জন মুখ্যমন্ত্রী কখনও আসেননি। এত জন জ়েড প্লাস সিকিউরিটি–র ভিআইপি–কেও একসঙ্গে দেখেনি শহর।
১৯৯৭–র সেপ্টেম্বরে কলকাতায় প্রয়াত হন মাদার টেরেসা। সেই সময়ে একসঙ্গে বহু ভিআইপি এসেছিলেন কলকাতায়। তবে সে বার আন্তর্জাতিক স্তরের ভিআইপি–র সংখ্যাই ছিল বেশি। আমেরিকার তৎকালীন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিন্টন, ফিলিপিন্সের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কোরাজ়ন আকুইনো থেকে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা — কে ছিলেন না সেই তালিকায়!
কিন্তু দেশের এতজন মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে কলকাতায় এসেছেন, তেমনটা মনে করতে পারছেন না কেউ। স্বভাবতই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ চিন্তিত প্রশাসন। পাশাপাশি বেশ উদ্বিগ্ন কলকাতা বিমানবন্দরের কর্তারা। আজ, শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এ কারণে কলকাতায় ফ্লাইট মুভমেন্টে সমস্যা হতে পারে বলে নোটাম (নোটিস টু এয়ারমেন) জারি করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
প্রায় কোনও মুখ্যমন্ত্রীই এখন আর সে ভাবে যাত্রিবিমানে যাতায়াত করেন না। বেশিরভাগেরই নিজস্ব বিমান রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার করতেন। কলকাতা বিমানবন্দরের কর্তাদের আশঙ্কা, এই ২৩ জনের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে আসবেন। যাঁদের মধ্যে আছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তারা।
সূত্রের খবর, আজ শুক্রবার থেকেই তাঁদের অনেকে আসতে শুরু করছেন। শনিবার সকালে ভিড় হবে সবচেয়ে বেশি। অনেকেই চার–পাঁচ ঘণ্টার জন্য আসবেন। ততক্ষণ এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে থাকবে বিমান। এতে প্রধানত দু’টি সমস্যায় পড়তে পারেন বিমানবন্দরের কর্তারা। এক, পার্কিং বে। দুই, যাত্রিবিমানের শিডিউল স্বাভাবিক রাখা। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী — সবারই ব্যক্তিগত বিমানের পাশাপাশি থাকবে হেলিকপ্টার। এর বাইরে এত জন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিমান। এয়ারপোর্টের এক কর্তা জানান, দেশের প্রথম সারির একাধিক শিল্পপতি শপথ অনুষ্ঠানে এলে তাঁরাও ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে আসবেন।
বিমানবন্দর সূত্রের খবর, কলকাতায় এখন ৭২টি পার্কিং বে রয়েছে। যেখানে বিমান দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রিবিমানেই ভর্তি থাকে বেশিরভাগ পার্কিং বে। তার মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভিআইপি–দের জন্য কিছু বে নির্দিষ্ট থাকে। শুক্রবার থেকে সাত নম্বর বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য, শাহর জন্য চার নম্বর এবং রাজনাথের জন্য পাঁচ নম্বর বে আলাদা করে রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এ বাদে ৬ এবং ৮ থেকে ১১ নম্বর পার্কিং বে সরিয়ে রাখা হয়েছে ভিআইপি–দের জন্য। মুখ্যমন্ত্রীরা তুলনায় ছোট বিমানে (১০ থেকে ২০ আসনের) যাতায়াত করেন, তাই তাঁদের বিমানের জন্য রাখা হচ্ছে অন্য পার্কিং বে। এই ভিআইপি-রা যাতায়াত করবেন বিমানবন্দরের তিন নম্বর গেট দিয়ে। প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার এয়ারপোর্টে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে।
খবর : এইসময় অনলাইন



