তরমুজে কী করে ঢুকল ইঁদুর মারার বিষ? ফরেনসিক রিপোর্টে ঘুরে গেল তদন্তের মোড়

Spread the news

৮ মে : মুম্বইয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় আরও একবার পোক্ত হল যে, তরমুজ খেয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়নি। মৃত্যুর কারণ ইঁদুর মারার বিষ জিঙ্ক ফসফাইড। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমনই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আবদুল্লা দোকাদিয়া ও তাঁর পরিবারের মৃত্যুতে প্রথমেই উঠে এসেছিল তরমুজের জেরে বিষক্রিয়ার তত্ত্ব। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, গৃহকর্তার শরীরে মিলেছে প্রাণঘাতী মরফিন। তবে ময়নাতদন্তের পর জানা গেল, মৃত্যুর পিছনে রয়েছে প্রাণঘাতী জিঙ্ক ফসফাইড। তবে সেটা কীভাবে শরীরের মধ্যে ঢুকল, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

এ দিকে, তাঁরা যে তরমুজটি খেয়েছিলেন, তার নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষায় সেই নমুনার মধ্যে ‘জিঙ্ক ফসফাইড’-এর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই বিষাক্ত রাসায়নিক ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর আগে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, মৃতদের সকলের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও অন্ত্রের মতো অঙ্গগুলির রং সবুজ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, অঙ্গ সবুজ হয়ে যাওয়া বিষক্রিয়ার অন্যতম লক্ষণ। আবদুল্লার শরীরে আবার মরফিনও মিলেছে।

২৬ এপ্রিল রাতে আবদুল্লা দোকাড়িয়া (৪৫)-র বাড়িতে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই উপলক্ষে এসেছিলেন বেশ কয়েকজন আত্মীয়স্বজন। মাটন বিরিয়ানি হয়েছিল। অতিথিরা চলে যাওয়ার পরে রাত ১টা নাগাদ আবদুল্লা, তাঁর স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই সন্তান জয়নাব (১৩) ও আয়েশা (১৬) তরমুজ খেয়েছিলেন। ভোর ৫টার মধ্যে তাঁদের প্রচণ্ড বমি ও ডায়ারিয়া শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।

এখন তদন্তকারীদের সামনে সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, তরমুজের ভিতরে কী ভাবে মিশল ইঁদুর মারার বিষ? ভুলবশত ওই রাসায়নিক তরমুজে মিশে গিয়েছিল? নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ বা কারা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ওই বিষ ঢুকিয়েছিল তরমুজে? পুলিশ এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ওইদিন রাতে দোকাড়িয়া পরিবারের সঙ্গে বিরিয়ানি খেয়েছিলেন অতিথিরাও। তাঁদের শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *