শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারীকে গুলি করে খুন

Spread the news

৭ মে : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় গোটা বাংলা। গেরুয়া ঝড়ে শাসক পরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় নৃশংসভাবে খুন করা হল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে।

জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথ আগে ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে তাঁর গাড়ির পথ আটকায় একটি চারচাকা যান। এরপর মোটরবাইকে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। চন্দ্রনাথ রথের শরীরে অন্তত তিনটি গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালকও।

ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অর্জুন সিংহ, কৌস্তভ বাগচী-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।”

এদিকে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছুক্ষণ ধরে মোটরসাইকেলে করে চন্দ্রনাথ রথের গাড়িকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, “এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত মৃতদেহ সৎকার করা হবে না।”

ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *