বরাক তরঙ্গ, ৭ মে : বরাকের প্রতিভাবান ভাস্কর ড. বিনয় পালের সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালকের সংযোজন ঘটল। বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন ২০২৫-২৬ ‘র টেগোর ন্যাশনাল স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি। মূলত উত্তর-পূর্বের পাবলিক আর্টের উপর গবেষণার জন্যই এই স্কলারশিপ পাবেন বিনয়।
হাইলাকান্দির কিংবদন্তি মূর্তি শিল্পী রবিন পালের ছেলে ড. বিনয় পাল বরাক সহ উত্তর পূর্বের শিল্প জগতে একজন সফল ভাস্কর হিসেবে সুপরিচিত। রয়েছে তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার একক প্রদর্শনী হয়েছে এবং গ্রুপ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। বহু জাতীয় ও রাজ্য স্তরের পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। একাধিকবার আন্তর্জাতিক রেসিডেন্সিতেও যোগ দিয়েছেন। মূলত বরাক উপত্যকার মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেই বিনয় ভাস্কর্য সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি সমানভাবে চলছে তার চারুকলার জগতে নিবিষ্ট গবেষণার কাজ। তার গবেষণাধর্মী লেখা দেশ-বিদেশের বহু জার্নালে ইতিমধ্যে প্রকাশিত।
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যকলা বিভাগ থেকে ভাস্কর্যের ডিগ্রিধারী বিনয় বিভাগেরই ভাস্কর্যের অধ্যাপক ড. গণেশ নন্দীর তত্ত্বাবধানে বরাক মূলের কিংবদন্তি ভাস্কর সুষেন ঘোষের সৃষ্টি কর্মের উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। সম্প্রতি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সুপর্ণা রায়ের তত্ত্বাবধানে পোস্ট ডক্টোরেল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে মিলল আরেকটি বিরল স্বীকৃতি। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের টেগোর ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর কালচারাল রিসার্চ (এনএফসিআর) স্কিমের আওতায় টেগোর ন্যাশনাল স্কলারশিপ ২০২৫-২৬’র জন্য বিবেচিত হয়েছে তার নাম। নয়াদিল্লি ললিতকলা অ্যাকাডেমিকে কেন্দ্র করে বিনয় উত্তরপূর্বের পাবলিক আর্ট নিয়ে গবেষণা করবেন। উত্তর-পূর্বে প্রাক স্বাধীনতা যুগ থেকে সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের রূপ ভাস্কর্য দেওয়াল চিত্রসহ বিভিন্ন গণশিল্পে কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বা রূপান্তর ঘটেছে তার বিস্তারিত গবেষণা করবেন বিনয়। দু’বছর মেয়াদের জন্য মিলবে মাসিক সাম্মানিক সহ যাবতীয় সুবিধা। বিনয়ের এই সম্মান প্রাপ্তিতে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ পরিচিত মহলে বিরাট খুশির আবহ তৈরি হয়েছে।



