মাত্র দুই বছর বয়সেই ‘ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ নাম, শ্রীভূমির গর্ব জেস্বিতা

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৯ এপ্রিল : অসাধারণ মেধা ও বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির জোরে মাত্র দুই বছর বয়সেই ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এ (IBR Achiever) নিজের নাম তুলে নজির গড়ল শ্রীভূমি জেলার বদরপুরের ছোট্ট কন্যা জেস্বিতা রায়। এত অল্প বয়সে এই বিরল সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, গোটা জেলা তথা অসম জুড়েই আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণত এই বয়সে শিশুরা যখন কথা বলা বা চারপাশের জিনিস চিনতে শেখে, তখনই জেস্বিতা তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ স্মৃতিশক্তির মাধ্যমে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

জানা গেছে, বদরপুর জুমবস্তির বাসিন্দা দেবব্রত রায় ও ঝুমকি রায়ের আদরের কন্যা জেস্বিতা জন্মের পর থেকেই অন্য শিশুদের তুলনায় আলাদা প্রতিভার পরিচয় দেয়। পরিবারের সদস্যদের কথায়, একবার কিছু দেখানো বা শেখানো হলে তা খুব সহজেই মনে রাখতে পারে জেস্বিতা এবং পরবর্তীতে সঠিকভাবে তা বলতে সক্ষম হয়। ইতিমধ্যেই সে অনায়াসে ৫টি রং, ৫টি শাকসবজি, ১২টি ফল, ৫টি জ্যামিতিক আকার, ৭টি ফুল এবং ১১টি শরীরের অঙ্গ চিনতে ও নাম বলতে পারে।

শুধু তাই নয়, মাত্র দুই বছর বয়সেই সে সাবলীলভাবে ২টি নার্সারি রাইমস বলতে পারে এবং একটি বাংলা কবিতা সুন্দরভাবে আবৃত্তি করে সকলকে মুগ্ধ করেছে। পাশাপাশি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রণাম মন্ত্রও শুদ্ধ উচ্চারণে বলতে পারে, যা তার বয়সের তুলনায় অত্যন্ত বিস্ময়কর।

সাধারণ জ্ঞানেও পিছিয়ে নেই জেস্বিতা। ৫টি সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পাজল সমাধান করে তার বিশ্লেষণ ক্ষমতারও পরিচয় দিয়েছে সে। তার এই সামগ্রিক দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ কর্তৃপক্ষ তাকে ‘IBR Achiever’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

জেস্বিতার বাবা দেবব্রত রায় বলেন, “ছোট থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম মেয়ের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে। তবে এত দ্রুত এই সাফল্য আসবে, তা ভাবিনি।” মা ঝুমকি রায় জানান, “মেয়ের এই অর্জন আমাদের জন্য গর্বের। আমরা চাই সে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করুক।”

স্থানীয় এলাকাতেও জেস্বিতার এই কৃতিত্ব ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, ছোট বয়স থেকেই প্রতিভা চিহ্নিত করে সঠিক দিকনির্দেশনা দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

মাত্র দুই বছর বয়সেই জেস্বিতা রায় প্রমাণ করে দিয়েছে—প্রতিভার কোনো বয়স নেই। বদরপুরের এই ছোট্ট কন্যা আজ শুধু একটি রেকর্ড গড়েনি, বরং তৈরি করেছে এক অনুপ্রেরণার গল্প, যা আগামী প্রজন্মের জন্য পথ দেখাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *