১৫ জুন : ভক্তি ও বিশ্বাসের অন্যতম কেন্দ্র অযোধ্যার নবনির্মিত রামমন্দিরকে ঘিরে এবার সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ। গত এক বছরে মন্দিরের সিন্দুক ও দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা এবং মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগের গুরুত্ব সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের না হওয়ায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উচ্চপদস্থ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনও সাধারণ চুরির ঘটনা নয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে মন্দিরের অভ্যন্তরীণ কিছু ব্যক্তির যোগসাজশ থাকার আশঙ্কা প্রবল। মন্দিরের দানবাক্স ও সিন্দুকের অর্থ গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ছয় সদস্যের দুটি বিশেষ দলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সিন্দুক ও প্রবেশপথে স্থাপিত একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা ইচ্ছাকৃতভাবে অকেজো করে রাখা হয়েছিল। ফলে চুরির সময়কার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, মন্দির পরিচালনা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই মিলকিপুর ও মিনাপুর ঠাকুরান ফাগাউলি এলাকায় একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মিনাপুরের একটি বাড়ি থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রায় ৭ কোটি টাকার আত্মসাতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মন্দির কমিটির অন্তত পাঁচজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় উত্তরপ্রদেশ সরকার লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্তের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। সিট-কে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাক্তন ডিজিপি অরবিন্দ জৈনের মতে, সিটের রিপোর্ট পাওয়ার পরই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে, তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে। অযোধ্যার বাসিন্দা বিক্রম তিওয়ারি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, এফআইআর ছাড়া কীভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্ভব। তাঁর বক্তব্য, রামমন্দির নির্মাণকে ঘিরে যে স্বপ্ন ও আবেগ ছিল, এই ঘটনার ফলে তা বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে বেনামী সম্পত্তি কেনা হয়েছে এবং বিলাসবহুল ভ্রমণেও খরচ করা হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র সাধারণ পুলিশি তদন্ত নয়, অর্থের গতিপথ অনুসন্ধানে বিশেষ আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা নিয়োগের দাবিও জোরালো হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে এখনও সরকারি তদন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। সিটের রিপোর্ট প্রকাশের পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



