১৫ জুন : বিমানের ভেতরটা কেমন দেখতে, তা এতদিন কল্পনাও করতে পারেননি মিথিলেশ সিং। চোখেমুখে ছিল ভয়, কৌতূহল আর বিস্ময়ের ছাপ। কিন্তু সোমবার সেই অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম প্রতীকী উড়ানে অংশ নিলেন ১৭০ জন কৃষক, আর তাঁদের সঙ্গে ডানা মেলল বহুদিনের স্বপ্নও।
সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ লখনৌগামী বিমানে চড়ে বসেন ওই কৃষকরা। তাঁদের নিয়েই নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বিমান। বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য যাঁরা জমি দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানাতেই উত্তরপ্রদেশ সরকার এই বিশেষ উড়ানের আয়োজন করে। যাত্রীদের সঙ্গে ছিলেন জেওয়ারের বিধায়ক ধীরেন্দ্র সিং। লখনৌ পৌঁছে তাঁরা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাবেন।
এর আগে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে লখনৌয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে আসা ইন্ডিগোর একটি যাত্রিবাহী বিমান নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রানওয়েতে বিমান স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বিমানটিকে ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুট’-এর মাধ্যমে বিশেষ সম্মান জানানো হয়।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে নির্মিত নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ২৮ মার্চ। অত্যাধুনিক এই বিমানবন্দরে রয়েছে ৩,৯০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) এবং উন্নত এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেমসহ আধুনিক নেভিগেশন সুবিধা। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৯,৬৫০ কোটি টাকা।
প্রথম উড়ানের মাধ্যমে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধু নতুন যাত্রার সূচনা করল না, বরং বিমানবন্দর গড়ে তোলার পিছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, সেই কৃষকদের সম্মান জানানোর এক অনন্য নজিরও স্থাপন করল।



