মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১১ নভেম্বর : মঙ্গলবার সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল, পাথারকান্দির প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।এদিন যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত উদযাপিত হলো জাতীয় শিক্ষা দিবস, যা স্মরণ করায় ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাবিদ মওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মবার্ষিকী। শিক্ষার গুরুত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারে এই দিনটি পালিত হয় অসাধারণ উচ্ছ্বাসে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশন করে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল একটি অনুপ্রেরণামূলক নাটিকা, যেখানে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয় শিক্ষাই সমাজ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি, অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। ছাত্রছাত্রীদের প্রাণবন্ত অভিনয় ও সংলাপ দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।নাটিকার পর পরই কয়েকজন ছাত্রছাত্রী শিক্ষার তাৎপর্য, নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও শিক্ষিত সমাজ গঠনের দায়িত্ব নিয়ে গভীর চিন্তাশীল বক্তৃতা উপস্থাপন করে। তাঁদের বক্তব্যে ফুটে ওঠে নতুন প্রজন্মের অদম্য উদ্যম, দেশপ্রেম ও আত্মবিশ্বাস। দর্শক ও শিক্ষকবৃন্দ করতালিতে ভরিয়ে দেন অনুষ্ঠানস্থল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর ভাষণে শিক্ষার বহুমাত্রিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে বলেন শিক্ষা কেবল বইয়ের জ্ঞান নয়, এটি চরিত্র গঠন ও সমাজ নির্মাণের ভিত্তি। একজন শিক্ষিত নাগরিকই পারে জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং মানবতার পতাকা উঁচিয়ে ধরতে।

তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন,তোমাদের হাতে ভবিষ্যতের দিশা। অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই গড়ে ওঠো সত্যিকারের মানুষ।অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মচারীদেরও সম্মাননা জানানো হয় তাঁদের অমূল্য অবদান ও নিরলস পরিশ্রমের জন্য। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিজ্ঞা নেয় আমরা শিক্ষা ও মানবতার আলো ছড়িয়ে দেব সমাজে।বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই বিশেষ দিনটি পরিণত হয় একটি মিলনমেলায়, যেখানে জ্ঞানের আলো, শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এক অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ।অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়। পুরো দিনজুড়ে বিদ্যালয়জুড়ে ছিল আনন্দ, গর্ব ও উদ্দীপনার আবহ সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় জাতীয় শিক্ষা দিবস কেবল স্মরণের দিন নয়, এটি প্রতিজ্ঞার দিন। শিক্ষা হোক পরিবর্তনের হাতিয়ার, শিক্ষাই হোক আমাদের আত্মবিশ্বাসের উৎস।বিদ্যালয়ের তরফ থেকে ভবিষ্যতেও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে নানা উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার জানানো হয়েছে।



