মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ এপ্রিল : দারিদ্র্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং প্রতিকূলতাকে জয় করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অনন্য সাফল্যের নজির গড়েছে পাথারকান্দির প্রত্যন্ত খোদাইলবাড়ি গ্রামের কৃতি ছাত্রী রিমা দেব। কোনো প্রাইভেট টিউটরের সাহায্য ছাড়াই চারটি বিষয়ে লেটার মার্কসসহ ৮৬.২০ শতাংশ নম্বর অর্জন করে সে শুধু নিজের পরিবার নয়, গোটা এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে।
সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসকে সম্বল করেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছে রিমা। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই ছাত্রী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। পরিবারে আর্থিক অনটন থাকলেও কখনোই স্বপ্ন দেখা থামায়নি সে। পাথারকান্দির খোদাইলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রোহিনী দেব ও লাভলী দেবের একমাত্র কন্যা রিমা। প্রতিদিন দূরবর্তী গ্রাম থেকে বাবার সঙ্গে স্কুলে যাতায়াত করেও পড়াশোনার প্রতি তার নিষ্ঠায় কোনও ভাটা পড়েনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও নানা প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি সে।
পাথারকান্দির বেসরকারি হলি চিলড্রেন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল-এর ছাত্রী রিমা এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৭৩, বাংলায় ৯৫, ঐচ্ছিক বাংলায় ৮৮, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯০ এবং এডুকেশনে ৮৫ নম্বর পেয়ে মোট ৪৩১ নম্বর অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে সে স্কুলের সেরা ছাত্রী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও কোনো প্রাইভেট টিউটরের সাহায্য ছাড়াই তিনটি বিষয়ে লেটার মার্কস নিয়ে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিল রিমা। সেই সাফল্যই তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে উচ্চমাধ্যমিকেও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হতে।
বর্তমান সময়ে যখন অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটরের উপর নির্ভরশীল, তখন রিমার এই সাফল্য ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের পরামর্শ এবং নিজের অধ্যবসায়ের জোরেই সে এই সাফল্য অর্জন করেছে।
রিমার এই অর্জন শুধু একটি ফল নয়, এটি সংগ্রামের জয় এবং অদম্য মানসিকতার প্রতিফলন। তার সাফল্য আজ অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে এলাকার নাম উজ্জ্বল করবে।



