বরাক তরঙ্গ, ১৪ এপ্রিল : ১৯৪৪ সালের আজকের এই ঐতিহাসিক দিনেই মণিপুরের মৈরাং-এ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজের বীর সেনানি কর্নেল শওকত মালিক ভারতের স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার স্মরণে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শিলচরের গান্ধীবাগস্থিত নেতাজির মূর্তির পাদদেশে ‘মৈরাং দিবস’ পালন করল নেতাজি চর্চা সমিতি, কাছাড়। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চন্দ্র নাথ। এরপর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতাজি চর্চা সমিতির সহ-সভাপতি নির্মলকুমার দাস ও দীপঙ্কর চন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেতাজি ফাউন্ডেশনের প্রধান সচিব প্রণব রায় চৌধুরী, এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের জেলা সম্পাদক ভবতোষ চক্রবর্তী, এআইএমএসএস-এর জেলা সম্পাদিকা দুলালী গাঙ্গুলি এবং এআইডিএসও-র রাজ্য সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্য প্রমুখ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সুব্রত চন্দ্র নাথ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নেতাজির নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ বাহিনীর আপসহীন সংগ্রামই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করেছিল। ১৯৪৪ সালের ১৪ এপ্রিল মৈরাং-এ পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ছিল সেই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল মাইলফলক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই বীরগাথা আজ পাঠ্যপুস্তকে ব্রাত্য।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে দেশজুড়ে বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে নেতাজির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। নেতাজির আদর্শকে পাথেয় করে একটি শোষণহীন ও ঐক্যবদ্ধ ভারতবর্ষ গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলকে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রণব রায় চৌধুরী, নির্মল কুমার দাস ও দীপঙ্কর চন্দ। বক্তারা সকলেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রকৃত ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



