বরাক তরঙ্গ, ১৩ এপ্রিল, সোমবার,
মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে কাছাড় জেলা রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন স্থানে নেমে যাওয়া নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই ফল শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কোথায় সমস্যার মূল? শিক্ষানুরাগী মহল, শিক্ষক সংগঠন, শিক্ষাবিদ এবং ছাত্রছাত্রীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি স্কুলগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা শিক্ষক শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা। শিক্ষকসঙ্কট শিক্ষার মানে সরাসরি প্রভাব ফেলে এ কথা নতুন নয়। পাশাপাশি, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। শুধুমাত্র উপসর্গ নয়, সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করেই স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে।
এটাও মনে রাখতে হবে, সরকারি স্কুলের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। পারিবারিক সহায়তার অভাব, সামাজিক ও আর্থিক চাপ—এসব তাদের শিক্ষাজীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই খারাপ ফলাফলের জন্য শুধু ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকদের দোষারোপ করা একপেশে ও অবিচারমূলক। আসলে, জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাংগঠনিক ব্যর্থতাই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও মেধাবী ছাত্রছাত্রী সঠিক দিকনির্দেশের অভাবে পিছিয়ে পড়বে—যার দায় এড়াতে পারবে না কেউই।
সময় এসেছে দায় স্বীকার করে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার। কাছাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে এখনই সকলে মিলিতভাবে উদ্যোগী হতে হবে।



