বরাক তরঙ্গ, ৩০ মার্চ : নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হয়ে উঠছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সংরক্ষিত ধলাই বিধানসভা আসনে এবার মূল লড়াই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী অমিওকান্তি দাসের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ।
গত উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী নীহাররঞ্জন দাসের কাছে প্রায় ৯ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ। তবে আড়াই বছর পর ফের ময়দানে নেমে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁর দাবি, এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং তিনি পরাজয়ের পর একদিনও বসে না থেকে ধারাবাহিকভাবে জনসংযোগ বজায় রেখেছেন।
বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলে ক্ষমতায় এলেও বাস্তবে সর্বত্র দুর্নীতি বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সমস্যা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবায় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গ্রামীণ এলাকায় এখনও রোগীদের কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ কায়েম হয়েছে। কৃষকদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। অরুণোদয় প্রকল্প সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পেও একই ধরনের অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ তোলেন। ঠিকাদারি কাজ নির্দিষ্ট কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ।

কংগ্রেসের দাবি, বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা কমছে এবং পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। দলের নেতা গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে বলেও আশা প্রকাশ করেন দলীয় কর্মীরা। ধলাই আসনে কংগ্রেসের জয় ‘সময়ের অপেক্ষা’ বলেও দাবি করা হয়েছে।
ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কংগ্রেস এখন ছোট ছোট গ্রুপ মিটিংয়ের উপর জোর দিচ্ছে। প্রতিদিন বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। তৃণমূল স্তরের কর্মী থেকে শুরু করে ব্লক ও জেলা স্তরের নেতারাও এতে অংশ নিচ্ছেন।
দলীয় কর্মীদের মতে, স্বাধীনতার পর থেকে দেশ গঠনে কংগ্রেসের অবদান উল্লেখযোগ্য এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও জনস্বার্থে কাজ করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প। সেই বিশ্বাস থেকেই ধলাই বিধানসভায় কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত বলে দাবি দলের নেতাকর্মীদের।



