২৮ ফেব্রুয়ারি : আলোচনা ও প্রাথমিক সমঝোতার পর্ব শেষে এবার বাস্তবায়নের পথে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘প্রজেক্ট ৭৫ আই’ (P75I)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী অর্থবর্ষেই জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ৬টি অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ তৈরির বিষয়টি চূড়ান্ত হতে চলেছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) প্রকল্পের আওতায় কৌশলগত অংশীদারির ভিত্তিতে এই ডুবোজাহাজগুলি নির্মাণ করবে জার্মানির বিখ্যাত সংস্থা ‘থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস’ এবং ভারতের ‘মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’।
বিশাল বাজেট ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: এয়ার ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন (AIP) সিস্টেমে সজ্জিত এই ছ’টি ডিজেল-ইলেকট্রিক ডুবোজাহাজ নির্মাণে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যখন এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন খরচ ধরা হয়েছিল ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এই ব্যয়ভার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই সাবমেরিনগুলিতে থাকবে ৫৩৩ এমএম টর্পেডো টিউব, ব্ল্যাক শার্ক টর্পেডো, এক্সোসেট জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ঘাতক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র।
বর্তমানে ভারতীয় নৌসেনার হাতে ১৭টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন থাকলেও তার মধ্যে ১১টি বেশ পুরনো। গত পাঁচ বছরে নতুন কোনও ডুবোজাহাজ নৌসেনার বহরে যুক্ত হয়নি। এর আগে ফরাসি প্রযুক্তিতে ‘প্রজেক্ট ৭৫’-এর অধীনে ছ’টি কলভরী গোত্রের সাবমেরিন তৈরি করা হয়েছিল। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান দাপট রুখতে ভারতের জলসীমানায় আরও আধুনিক ও নিঃশব্দ ডুবোজাহাজের প্রয়োজন ছিল দীর্ঘদিনের।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের লক্ষ্য আগামী এক দশকে নৌসেনার জল ও আকাশযান প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে নৌসেনায় ১৪০টি জলযান এবং ২৫০টিরও বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে। মুম্বইয়ের মাঝগাঁও ডকে এই নতুন ছ’টি ডুবোজাহাজ তৈরি হলে তা কেবল নৌসেনার শক্তিই বাড়াবে না, বরং প্রতিরক্ষা শিল্পে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নৌসেনার বর্তমান গতির তুলনায় এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



