নিউ শিলচরের ফ্যাক্টরি লেনে অবৈধ মাটি ভরাটের জেরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, বিপাকে হাজারো বাসিন্দা

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ মে : শিলচরের নিউ শিলচর এলাকার সোনাই রোড সংলগ্ন ফ্যাক্টরি লেন থেকে মজুমদার বাজার পুকুর পর্যন্ত দীর্ঘদিনের জননিয়ন্ত্রিত নিকাশী ব্যবস্থা ও পথঅধিকার অবৈধভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে ফ্যাক্টরি লেন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার বাসিন্দার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মজুমদার বাজার পুকুর সংলগ্ন জমির নতুন অংশীদাররা অবৈধভাবে পুকুর ভরাট করে আশপাশের জমির উচ্চতা বৃদ্ধি করেছেন। এর জেরে ফ্যাক্টরি লেন থেকে সোনাই রোড তথা ৩০৬ নম্বর জাতীয় সড়ক পর্যন্ত প্রাকৃতিক ও পুরনো নিকাশী ব্যবস্থার প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ফ্যাক্টরি লেন থেকে সোনাই রোড পর্যন্ত সংযোগকারী প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট প্রশস্ত একটি জনসাধারণের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, “বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা ডুবে যায়। স্কুলপড়ুয়া শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রবীণদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”

বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, আগে সংশ্লিষ্ট দফতর বৃষ্টির জল ও গৃহস্থালির নোংরা জল নিষ্কাশনের জন্য ওই নিকাশী ব্যবস্থায় ক্রস-কালভার্ট নির্মাণ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থাও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা একাধিকবার জেলা শাসক, পুর নিগমের কমিশনার এবং স্থানীয় বিধায়কের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাদের।

তাঁদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন জল জমে থাকায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ও কলেরার মতো জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরের প্রায় ১০ মাসই এলাকার বিভিন্ন গলিতে জল জমে থাকে।

রবিবার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমের সামনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে ৩০৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা।

এদিন প্রতিবাদী বাসিন্দাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিঠু দেব, প্রণয় শুক্লবৈদ্য, অমল শুক্লবৈদ্য, মিঠুন পাল, পিকু পাল, অভিজিৎ চন্দ্র, অমল বনিক, পান্তু নাথ, বিক্রম সাহা, বিশ্বজিৎ ঘোষ, সানি কর্মকারসহ আরও অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *