১৭ জুন : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলের নতুন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ড্রোন হামলায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এর পরই হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
আল জাজিরা এবং লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মাইফাদুন এলাকায় দু’টি গাড়ি এবং শৌকিন গ্রামে আরেকটি গাড়িকে লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনার সময় তেহরান বারবার বলে এসেছে, যেকোনো স্থায়ী সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি বলেছেন, আলোচনায় লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক উপস্থিতি এবং হামলা অব্যাহত থাকলে তা সম্ভাব্য সমঝোতার চেতনার পরিপন্থী হবে। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে দখল করা অঞ্চল থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার না হলে সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।”
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে ইজরায়েলকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে, লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও সাবেক প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ, বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষা এবং দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা সামনে আসার পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নিরাপত্তা স্বার্থ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তেহরান ভবিষ্যৎ আলোচনায় লেবানন থেকে ইজরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



