মণিপুরে দুই হামলার মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার NIA-এর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ সেপ্টেম্বর : মণিপুরে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলা এবং আইইডি বিস্ফোরণে দুই নাবালকের মৃত্যুর পৃথক ঘটনায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দুটি মামলাতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় চুরাচাঁদপুরের বেথেল এলাকার বাসিন্দা জাংমিনলুন সিংসন ওরফে ফ্র্যাঙ্কি (৪৪) এবং গামফাজাং তুইবং এলাকার থাংজোয়েল হাওকিপ ওরফে থাংবোইকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলায় তাঁরা তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত।

২০২৪ সালের ১০ জুন কাংপোকপি জেলার কে সিনাম গ্রামের কাছে NH-37 জাতীয় সড়কে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় দুই নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হন এবং সরকারি কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। NIA-এর তদন্তে উঠে এসেছে, কনভয়ে হামলার পরিকল্পনা ও তা কার্যকর করতে সহায়তার ক্ষেত্রে সিংসন ও হাওকিপের কথিত ভূমিকা ছিল। ষড়যন্ত্রে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এর আগে অন্য একটি মামলায়ও তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল NIA। দুজনকে মণিপুরের থৌবালে অবস্থিত বিশেষ NIA আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের আট দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়।

অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর জেলার ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাইয়ে ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল আইইডি হামলার ঘটনায় চুরাচাঁদপুরের বাসিন্দা প্রায় ৪৮ বছর বয়সী থাংমাং হাওকিপকে গ্রেপ্তার করেছে NIA। ওই বিস্ফোরণে দুই নাবালকের মৃত্যু হয়েছিল।

NIA-এর দাবি, পাহাড়ের দিক থেকে ছোড়া একটি বিস্ফোরক একটি আবাসিক বাড়ির দেওয়ালে আঘাত করে। ঘটনায় পরিবারের তিন সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের মধ্যে দুই শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি অবিস্ফোরিত ইম্প্রোভাইজড RPG-ও উদ্ধার করা হয়েছিল।

এই মামলায় হাওকিপ দ্বিতীয় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত। এর আগে ১২ আগস্ট এস. পালাল থাদৌ কুকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

২৫ সেপ্টেম্বর থাংমাং হাওকিপকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ইম্ফলের বিশেষ NIA আদালত-II-তে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়।

NIA জানিয়েছে, দুটি মামলাতেই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের ভূমিকা নির্ধারণ, কথিত ষড়যন্ত্রে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের সূত্র খুঁজে বের করা এবং ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *