ট্রলি থেকে উদ্ধার হওয়া মুণ্ডহীন মহিলার দেহাংশ মিলল চেন্নাইয়ে কাছাড়ের যুবকের ঘরে, পলাতক

Spread the news

২৪ আগস্ট : আগরা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে পচাগলা মানুষের দেহাংশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে গুডুভাঞ্চেরির একটি বাড়িতে পৌঁছেছে সরকারি রেল পুলিশ (জিআরপি) ও স্থানীয় পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে আরও কিছু দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ।

গত ৫ আগস্ট ভোর ৫টা নাগাদ আগরা রেলস্টেশনে ১২৬২১ নম্বর তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের পিছনের সাধারণ কামরায় একটি লাল ট্রলি ব্যাগের ভিতর থেকে মাথাবিহীন ও পচাগলা দেহাংশ উদ্ধার হয়। এরপর আগরা রেল পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।

মৃতার পরিচয় হায়াতুন নিশা (৩৮) হিসেবে জানা গেছে। তিনি ওড়িশার জগৎসিংহপুরের বাসিন্দা এবং জহুর খানের স্ত্রী। শহরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। আগরা রেল পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর চেন্নাই সেন্ট্রাল জিআরপি এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (সিআইবি) চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। ফুটেজে এক পুরুষ ও এক মহিলাকে একই ধরনের একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসে উঠতে দেখা যায়। ট্রেনটি ৩ আগস্ট রাত ১০টা নাগাদ চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশ সুপার পি. রাজনের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল ওই দু’জনের সন্ধান পায়। তদন্তে জানা যায়, তারা গুডুভাঞ্চেরিতে থাকছিল।

শুক্রবার পুলিশ ওই এলাকার মাসুতি স্ট্রিটে একটি বাড়ির সন্ধান পেয়ে গুডুভাঞ্চেরি থানার পুলিশকে খবর দেয়। ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বড় পাত্রের ভিতর মহিলার আরও কিছু দেহাংশ পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ, মৃতা নিশার সঙ্গে ওই দুই সন্দেহভাজন—অসমের মানিক উদ্দিন লস্কর এবং ওড়িশার ভগবতী মাঝি—ওই বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার পর থেকে দু’জনই পলাতক। দু’জন স্বামী-স্ত্রী। মানিক উদ্দিন কাছাড়ের জিরিঘাটের বাসিন্দা। বর্তমানে তার মা-বাবা সোনাবাড়িঘাট ভাড়াঘরে বসবাস করছেন বলে জানা যায়।

মহিলার মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে গুডুভাঞ্চেরি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নিশার ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে নিখোঁজ মহিলার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছিল।

অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *