১৩ জুন : দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শীঘ্রই সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সফর করতে পারেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।
অন্যদিকে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া পাঠ্য নিয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। সূত্রের দাবি, জেনেভায় সমঝোতা স্মারক সই হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিয়ে আরও ৬০ দিন আলোচনা চলবে। এসব পরবর্তী বৈঠক পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাতারের মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তেহরান থেকে সংশোধিত খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাতারি প্রতিনিধিদলের প্রত্যাবর্তনকে আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এখন ‘আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



