দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৮ জুলাই : শিলচর ও শহরতলির ১৫টি নাগরিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ‘ইউনাইটেড সিটিজেন্স শিলচর’ বুধবার সিটিভিও কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ছাত্র-যুবক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনে নামা হবে। প্রশাসনের ওপর তাদের আর কোনও আস্থা নেই বলেও দাবি করা হয়।
সংগঠনের মুখপাত্র ধ্রুবকুমার সাহা বলেন, উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে শহরের পরিকাঠামোর অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
অভিযোগ, পুরনো রাস্তা সমতল না করেই তার উপর নতুন ব্লক বসানোর ফলে রাস্তার উচ্চতা বেড়ে গেছে। কিন্তু ড্রেনের উচ্চতা অপরিবর্তিত থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সোনাই রোড, সেন্ট্রাল রোড-সহ শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।
সংগঠনের দাবি, পুরনো রাস্তার স্তর কেটে সমতল করে নতুন ব্লক বসাতে হবে এবং রাস্তা ও ড্রেনের উচ্চতার মধ্যে সমন্বয় রেখে নির্মাণকাজ করতে হবে। পাশাপাশি শহরের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান প্রকাশ করে তা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করারও দাবি জানানো হয়। রাঙ্গিরখাল-সহ শহরের প্রধান খালগুলির সংস্কারের মাস্টার প্ল্যান এখনও প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠন। দ্রুত প্রকল্পটি জনসমক্ষে আনা, খাল খনন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। পানীয়জল সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সংগঠনের অভিযোগ, ১৯৬০-এর দশকের অধিকাংশ পাইপলাইন এখন জরাজীর্ণ। বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে জল অপচয়ের পাশাপাশি সড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে। তাই আধুনিক ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন পাইপলাইন বসানোর দাবি তোলা হয়েছে।
এছাড়া শহরের যানজট সমস্যা নিরসনে ভারী যানবাহনের জন্য বিকল্প সড়ক নির্মাণ, সংযোগ সড়কের উন্নয়ন, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানায় সংগঠন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধ্রুবকুমার সাহা, আশু পাল, সঞ্জীব রায়, বাসুদেব শর্মা, রামানুজন ভট্টাচার্য, অনির্বাণ ভৌমিক ও অধ্যাপক অজয় রায়। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ‘ইউনাইটেড সিটিজেন্স শিলচর’-এর নেতৃত্বে বৃহত্তর গণআন্দোলন শুরু হবে।



