মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ জুন : পাথারকান্দির বহুল আলোচিত ‘মোরাল পুলিশিং’-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনরোষ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার মামবাড়ি–পাথারকান্দি বাইপাস এলাকায় এক বৃহৎ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও গণসংগঠনের পাশাপাশি অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আমছু)-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে হারিয়ে যাওয়া গরুর খোঁজে নালুগাঁও এলাকায় গিয়েছিলেন মামবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন ও আমির উদ্দিন। অভিযোগ, সেখানে কিছু যুবক তাঁদের গরু চুরির সন্দেহে আটক করে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিবাদী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমছুর সাংগঠনিক সম্পাদক কাজি সাদিক আখতার বলেন, পাথারকান্দি দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের জন্য পরিচিত। এমন ঘটনা এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তিনি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সভা থেকে শুক্রবার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে জানানো হয়, সন্তোষজনক পদক্ষেপ না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এদিকে, মানবতাবিরোধী ও বর্বরোচিত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী স্বপন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমেদ পান্না, দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আব্দুল মুমিনুর রশিদ চৌধুরী সামিম এবং জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জেলা সিনিয়র পুলিশ সুপার নীলা দোলে-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলটি ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
এদিকে, ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে দু’জন অভিযুক্ত—দুদুমণি সিনহা ও ভাস্কর সিনহাকে গ্রেপ্তার করেছে পাথারকান্দি পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিও ঘিরে সমগ্র শ্রীভূমি জেলায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সংগঠন দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হবে না।



