২৮ এপ্রিল : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব গ্রহণে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে—আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার শর্তও জুড়ে দিয়েছে তেহরান। এই প্রস্তাবকে অসম্পূর্ণ বলেই মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক ইস্যু বাদ রেখে শুধু নৌপথ চালুর প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
এদিকে, ইউরোপ থেকেও প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সক্রিয়ভাবে খোঁজা জরুরি। তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, যার ফলে দ্রুতই বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।



