মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১ মে : অসম ও ত্রিপুরার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম ৮ নম্বর জাতীয় সড়কের বেহাল চিত্র আবারও প্রকাশ্যে এল। সামান্য বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই সড়কের কারণে শুক্রবার দুপুরে শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি বিধানসভার লোয়াইরপোয়া এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক যাত্রী ও যানবাহন চালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তার জেরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে আগে থেকে থাকা বড় বড় গর্তে জল জমে পুকুরের আকার ধারণ করে। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে পুরো অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এতে বিশেষ করে ভারী যানবাহনের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় লোয়াইরপোয়া পশু চিকিৎসালয়ের কাছে। সেখানে রাস্তার মাঝখানে তৈরি হওয়া একটি বিশাল গর্তে একটি পণ্যবাহী লরি আটকে পড়ে। লরিটি সরানো সম্ভব না হওয়ায় সড়কের দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে বাজারিছড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে একটি জেসিবি মেশিনের সাহায্যে বহু চেষ্টার পর আটকে পড়া লরিটিকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, পাশের এলাকা থেকে মাটি এনে গর্তটি সাময়িকভাবে ভরাট করে যান চলাচল আংশিক স্বাভাবিক করা হয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ ধরনের সাময়িক মেরামত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সড়কের এমন ভগ্নদশা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। কারণ, এই সড়কটি ত্রিপুরা ও অসমের মধ্যে অন্যতম প্রধান স্থল যোগাযোগের পথ।

প্রবীণদের দাবি, অতীতেও এই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বহুবার চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যখন যানবাহন পারাপারের জন্য এক্সকাভেটর বা এমনকি হাতির সাহায্য নিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাইপাস সড়ক নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে সমস্ত ছোট-বড় যানবাহনের চাপ পড়ছে এই মূল সড়কের উপর। অতিরিক্ত চাপ ও সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির ফলে মাত্র এক বছর আগে সংস্কার করা সড়কটিও দ্রুত ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী ও যানবাহন চালকরা দ্রুত জাতীয় সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।



