২৭ আগস্ট : বয়স মাত্র ছয় বছর। কিন্তু চোখেমুখে আত্মবিশ্বাস, কণ্ঠে দৃঢ়তা। হাতে পতাকা নিয়ে বিহারের পাটনায় ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে নজর কেড়েছে ছোট্ট আদিত্য কুমার। আন্দোলনস্থলে মাইক হাতে তাকে স্লোগান দিতে দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।
গত ২৫ আগস্ট পাটনার ডাকবাংলো মোড়ে বিপিএসসি (বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন TRE-4) পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগেও NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নেমেছিলেন পড়ুয়ারা। এবার রাজ্যেরই একটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় পরিস্থিতি।
সেই আন্দোলনেই দেখা যায় আদিত্যকে। হাতে পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয় সে। পরে মাইক হাতে নিয়ে সরাসরি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির পদত্যাগের দাবি জানায়। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আদিত্য বলে, ‘‘সরকার যেভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে, তাতে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এই ব্যবস্থা এখন ঠিক না হলে ভবিষ্যতে আমি যখন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দেব, তখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে পারে। এতে দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে।’’
শুধু তাই নয়, বাসের ছাদে উঠে হাতে তেরঙ্গা নিয়েও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাকে। আরও অবাক করার মতো বিষয়, স্কুলে যাওয়ার সময় তার ব্যাগে নাকি সবসময় থাকে ভারতের সংবিধান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আদিত্য জানায়, ইতিমধ্যেই সংবিধানের ৮০টি পাতা পড়ে ফেলেছে সে। দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আন্দোলনে নেমেছে বলেও জানায় খুদে এই পড়ুয়া।
পাটনার পুনাইচক এলাকার একটি বস্তিতে পরিবারের সঙ্গে থাকে আদিত্য। তার বাবা দিনমজুর এবং মা পরিচারিকার কাজ করেন। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয় পরিবারটি। তবে পড়াশোনার প্রতি আদিত্যের আগ্রহ প্রবল। দেশের বিভিন্ন ঘটনাবলি সম্পর্কেও সে নিয়মিত খোঁজ রাখে।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। জলকামান ও লাঠিচার্জের সময় নিরাপত্তার কারণে পুলিশ আদিত্যকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, ৬ বছরের শিশুকে ‘গ্রেপ্তার’ করেছে বিহার পুলিশ। যদিও পুলিশ সেই দাবি খারিজ করে জানায়, শিশুটির নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য থানায় রাখা হয়েছিল। পরে তাকে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে এমন উত্তপ্ত আন্দোলনস্থলে ছোট শিশুকে না আনার জন্যও পরিবারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।



