২৬ আগস্ট : অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ, স্বরাষ্ট্র ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে অসমের বিদ্যুতের চাহিদা, বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগর উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অসমের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে গ্রাহকমুখী সংস্কার বাস্তবায়ন এবং রাজ্যকে শক্তি ক্ষেত্রে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অবহিত করেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো এবং কেন্দ্রীয় উৎপাদন কেন্দ্রগুলি থেকে অসমের জন্য বরাদ্দ বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিশেষভাবে গুয়াহাটির বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেবল স্থাপনের প্রস্তাবও বৈঠকে উঠে আসে। এছাড়া রাজ্যের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্যতা, ব্যবহার এবং মূল্য নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, অসম বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে গ্রাহকমুখী সংস্কারের পাশাপাশি স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মনোহর লাল খট্টর দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের প্রেক্ষিতে ‘নগর চ্যালেঞ্জ ফান্ড’-এর আওতায় অসমের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া এবং জলবায়ু-সহনশীল পরিকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত নগর পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরও ‘এক্স’-এ জানান, অসমের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চাহিদা, কেন্দ্রীয় উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বরাদ্দ বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার, গুয়াহাটিতে ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপন এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ও মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায় অসমের বিদ্যুৎ ও নগর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।



