২৭ আগস্ট : বন্যা, ভূমিধস ও ভূমিকম্প—পরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল। বুধবার গভীর রাতে ফের ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূমিধসপ্রবণ কোদারি এলাকা থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তবে এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট নয়। এর আগে ওই এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম তীব্রতার কম্পন অনুভূত হয়েছিল। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-কে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রথমে কম্পনটির মাত্রা ৪.৪ বলে জানানো হলেও পরে USGS-এর তথ্য অনুযায়ী সেটি ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত হয়। নেপালের এক আধিকারিক আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভূমিকম্পের কারণেই ওই এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে, তিব্বত থেকে নেপালের দিকে নেমে আসা বন্যার জলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বন্যার জলে এক হাজারেরও বেশি মানুষ ভেসে গিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া জেলা। এখনও ৪০০-রও বেশি পর্যটকের খোঁজ মেলেনি। তাঁদের মধ্যে ৩০০-র বেশি বিদেশি নাগরিক এবং অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১৬৫-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। বন্যার জলে একাধিক গ্রাম কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২২ মিনিটে তিব্বতে ৪.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর জেরে তুষারধসের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ওই তুষারধসের ফলেই সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট নাগাদ হড়পা বান নেমে আসতে পারে। তবে কোনও হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও এখনও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



