২৯ জুলাই: কোচবিহারে একাধিক রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে SUCI, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং সিপিআই(এম)-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট দলগুলি। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
বুধবার ভোরে কোচবিহার শহরের SUCI জেলা কার্যালয়ে দুষ্কৃতীরা দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। কার্যালয়ের ভিতরে থাকা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি লাইট, ফ্যান, চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়। আলমারিতে থাকা বইপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি কিছু নগদ অর্থও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
SUCI নেতা নেপাল মিত্র অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে কার্যালয়ে ঢুকে এই তাণ্ডব চালায়। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা জড়িত। একই সময়ে কোচবিহার শহর সংলগ্ন খাগড়াবাড়িতে ফরওয়ার্ড ব্লকের একটি কার্যালয়েও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে দিনহাটার গোসানিমারি বাজারে সিপিআই(এম)-এর একটি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া কোচবিহার শহরের সিপিআই(এম)-এর জেলা কার্যালয়ে ঢিল ছুড়ে কাচ ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বসু সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে বলেন, বর্তমানে কিছু তৃণমূল ও বামপন্থী কর্মী গেরুয়া টিকা ও ফেট্টি পরে বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়ে বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। তবে SUCI কার্যালয়ে মনীষীদের ছবি নষ্ট করার ঘটনাকে তিনি ‘ন্যক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।



