মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ অক্টোবর: দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা থেকে পাথারকান্দি শহরকে মুক্ত করতে এবার কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটল সমজেলা প্রশাসন। সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা দোকানঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে সরকারি জমি খালি করার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা থেকে তেমাথা থেকে আছিমগঞ্জ পর্যন্ত মাইকযোগে প্রচার চালানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে প্রশাসন।
আসন্ন দুর্গাপূজার আগে পাথারকান্দি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সড়কের পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং ব্যস্ত সময়ে যানজটের পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বিশেষ করে তেমাথা থেকে আছিমগঞ্জ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক ও পূর্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে দোকানপাট ও ব্যবসায়িক সামগ্রীর কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে ছোট-বড় যানবাহন আটকে পড়ছে। এতে নিত্যযাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পুজোর মরশুমে যানবাহনের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিজেদের উদ্যোগে সরকারি জমি খালি করে দিতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশা, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে শহরের যান চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। তবে শুধু সরকারি জমি দখলমুক্ত করলেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহলের অনেকে। যত্রতত্র পার্কিং, সড়কের উপর যানবাহন দাঁড় করানো এবং বাজার এলাকায় যান চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, রবিবারের সময়সীমার পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পাথারকান্দিবাসী।



