১৭ জুলাই : মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখায় শুক্রবার সকালে ঘটে গেল হৃদয়বিদারক রেল দুর্ঘটনা। কর্ণসুবর্ণ স্টেশন ও গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ের মাঝামাঝি একটি স্কুলগাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয় নিমতিতা-কাটোয়া ডাউন লোকাল ট্রেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন স্কুলপড়ুয়া এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিন পড়ুয়া ও স্কুলগাড়ির চালক। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছুক্ষণ আগেই আপ লাইন দিয়ে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যায়। কিন্তু তার পরেও গোবিন্দপুর লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করা হয়নি। গেট খোলা দেখে স্কুলগাড়িটি রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুতগতিতে আসা নিমতিতা-কাটোয়া ডাউন লোকাল সেটিকে সজোরে ধাক্কা মারে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় স্কুলগাড়িটি কয়েক মিটার দূরে ছিটকে গিয়ে সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই এলাকায় চিৎকার ও আর্তনাদ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ, রেল কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, গেটম্যানের গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজনের দাবি, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান দায়িত্বে অবহেলা করেছিলেন। এমনকি তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের সরকারি সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি রেলও পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কেন লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা ছিল, দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না এবং প্রযুক্তিগত কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের রেল লেভেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সব লেভেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।



