কে এ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ আগস্ট : লক্ষীপুরে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অব্যবস্থার নানা চিত্র সামনে আসছে। কোথাও শতাধিক ছাত্রছাত্রীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন বা দু’জন শিক্ষক, আবার কোথাও ছাত্রসংখ্যার তুলনায় শিক্ষক রয়েছেন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। এমনই এক বিস্ময়কর চিত্র দেখা গেল লক্ষীপুর প্রাথমিক শিক্ষা খণ্ডের অধীন ১২৮৪ নম্বর চাপ্রৌ এলপি স্কুলে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলটিতে নিয়মিত পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র চারজন। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে দু’জন, তৃতীয় শ্রেণিতে একজন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে একজন পড়ুয়া। দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে কোনও ছাত্রছাত্রী নেই। এছাড়া ক’মানে আরও ছয়জন শিশু রয়েছে। তবে তাদের নিয়মিত পড়ুয়া হিসেবে গণ্য করা হয় না। শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী ক’মানের পড়ুয়াদের স্কুল ড্রেস দেওয়া হয় না, যদিও তাদের মিড-ডে মিল দেওয়া হয়।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বসন্ত সিংহ এই তথ্য মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১০ জন। এই ১০ জন পড়ুয়ার বিপরীতে বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। প্রধান শিক্ষক বসন্ত সিংহ ছাড়াও রয়েছেন ডব্লিউ. সত্যবতী সিংহ, এম. ঙান্থাওলেম্বী সিংহ এবং ডব্লিউ. সূর্য্য সিংহ।
অন্যদিকে লক্ষীপুরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে। কোথাও শতাধিক ছাত্রছাত্রীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। কোথাও আবার ছাত্রছাত্রী থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এমন পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী বা অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলের মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন সরকারি ও দাপ্তরিক কাজ সামলানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আবার কিছু বিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যার তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা বেশি থাকার ঘটনাও সামনে এসেছে। ১২৮৪ নম্বর চাপ্রৌ এলপি স্কুল তার অন্যতম উদাহরণ। ছাত্রসংখ্যা অত্যন্ত কম হলেও বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এই বৈষম্যপূর্ণ শিক্ষক বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বর্তমান ব্লক প্রাথমিক শিক্ষাধিকারী পরিস্থিতির পরিবর্তনে উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের এই অসামঞ্জস্য দূর করতে শিক্ষা বিভাগ আগামী দিনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



