দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ এপ্রিল : অল আসাম রায় (খয়রা) সমাজের উদ্যোগে রবিবার দরগাকোণা চালতাবস্তিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘রায় (খয়রা) জাতির মর্যাদা প্রাপ্তির সংবর্ধনা সভা’। প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকার রায় (খয়রা) জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। সভার শুরুতে সমাজের পক্ষ থেকে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের করা হয়। পরে উপস্থিত সদস্যরা হনুমানজির প্রতিকৃতির সামনে প্রদীপ প্রজ্বলন ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
সভায় বক্তারা রায় (খয়রা) জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ সামাজিক সংগ্রাম, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সমাজের মর্যাদা প্রাপ্তি শুধু স্বীকৃতির বিষয় নয়, এটি এক দীর্ঘ আন্দোলন, আত্মপরিচয় রক্ষার লড়াই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বরাক উপত্যকার চা জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে রায় (খয়রা) সম্প্রদায়ের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।আলোচনাপর্বে সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, সাংগঠনিক ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। স্থানীয় নেতা ও সমাজসেবীরা রায় (খয়রা) সমাজকে আরও সুসংগঠিত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন। তাঁদের মতে, জাতিগত মর্যাদা অর্জনের পর সমাজের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে, কারণ সেই স্বীকৃতিকে বাস্তব সামাজিক উন্নয়নে রূপ দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রায় (খয়রা) সমাজের বার্ষিক সম্মেলনের সভাপতি বাদল রায়, সম্পাদক মেঘনাদ রায়, কার্যকরী কমিটির সভাপতি জ্যোতির্ময় রায়, সম্পাদক তুলসী রায়, সহ-সম্পাদক নিরানন্দ রায়, প্রাক্তন সভাপতি শংকর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা নেপাল রায়, জীবন লাল রায়, ধনীরাম রায়, মিঠাইলাল রায়, বাবুলাল রায়, প্রতাপ রায়-সহ আরও অনেকে। আয়োজনে দরগাকোণা চালতাবস্তির সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সভায় উপস্থিত সকলে একমত হন যে, এই ধরনের আয়োজন কেবল সম্মান প্রদর্শনের অনুষ্ঠান নয়, বরং নিজেদের পরিচয়, ঐতিহ্য ও ঐক্যকে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। রায় (খয়রা) সমাজের এই সংবর্ধনা সভা তাই স্থানীয় পর্যায়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



