জনগণের কণ্ঠরোধ করতে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী নীতি গ্রহণ সরকারের : বামপন্থী দলের অভিযোগ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৩ আগস্ট : অসম সরকার রাজ্যের জনগণের মতামতকে কণ্ঠরোধ করতে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী নীতি গ্রহণের অভিযোগ উত্থাপন করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের পাঁচটি বামপন্থী দল—যথাক্রমে সিপিআই (এম), সিপিআই, এসইউসিআই (সি), সিপিআই (এম-এল), ফরওয়ার্ড ব্লক একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে।

সিপিআই(এম) এর রাজ্য সম্পাদক সুপ্রকাশ তালুকদার, এসইউসিআই (সি) এর রাজ্য সম্পাদক চন্দ্রলেখা দাস, সিপিআই এর রাজ্য সম্পাদক কনক গগৈ, সিপিআই(এম-এল) এর রাজ্য সম্পাদক বিবেক দাস, ফরওয়ার্ড ব্লকের সভাপতি মিহির নন্দীর স্বাক্ষরিত প্রেস বার্তায় বলা হয়, অসম সরকার কৃষকের জমির অধিকার রক্ষার আন্দোলন সংগঠিত করার অপরাধেই আদিত্য কুমার রাভা, প্রণব দোলে সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। পরবর্তী সময়ে প্রণব দোলে সহ পাঁচজনকে আদালত জামিনে মুক্তি দিলেও, প্রণব দোলেকে সরকার পুনরায় এনএসএ-র অধীনে গ্রেপ্তার করে জেলে নিক্ষেপ করেছে। উপগ্রহ নগরী স্থাপনের অজুহাতে জনজাতীয় কৃষকদের জমি কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে হস্তান্তর করার চক্রান্ত করছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এই সরকারের বিরোধিতা করার জন্যই আন্দোলনকারীদের ওপর এনএসএ-র মতো কালো আইন ব্যবহার করতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। সরকারের পদক্ষেপ যে চরম স্বৈরতান্ত্রিক এবং ফ্যাসিবাদী তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

প্রকৃতপক্ষে সমগ্র রাজ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাজকর্ম সংকুচিত করতে পরিকল্পিতভাবে নেমে পড়েছে এই সরকার। রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করার জন্য ২,০০০ টাকা জমা দিয়ে আবেদন করার অদ্ভুত নীতি প্রবর্তন করা হয়েছে। চরম উদ্বেগের বিষয় যে, স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোকেও অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ। সামান্য অজুহাতে সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সভা-সমিতির অনুমতি না দিলে আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া ২,০০০ টাকা ফেরত না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে এই স্বৈরতান্ত্রিক সরকার।

রাজ্য সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি মহানগরীতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মিছিলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার মাধ্যমে। এমনকি মহানগরীতে পোস্টারিং করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাতে বিরোধী দল ও সংগঠনগুলোর প্রচার অভিযান সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া যায়। এটি রাজ্যের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

এছাড়াও, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর বিভিন্ন মনগড়া ও কঠোর ধারায় মামলা চাপিয়ে দিয়ে তাদের সন্ত্রস্ত করার এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে না ওঠে, তার অপচেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। জনগণের সমস্যা সমাধানে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ সরকারটি ভয়-ভীতির পরিবেশ এবং উৎকট সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার পথ বন্ধ করতে চাইছে।

সম্প্রতি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন সরকার বন্যা ত্রাণের জন্য সাহায্য বা অনুদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা আরোপ করেছে, তাতেই প্রমাণিত হয় এই সরকার কতটা স্বৈরাচারী। বন্যা ত্রাণ বিতরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই সরকারের এমন ঘোষণা চরম নির্লজ্জতার প্রদর্শন।

রাজ্যের বাম দলগুলো সরকারের এই ধরনের অগণতান্ত্রিক ও অমানবিক কর্মকাণ্ডকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

সিপিআই(এম), সিপিআই, এসইউসিআই(সি), সিপিআই(এম-এল), ফরওয়ার্ড ব্লক সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ অক্ষুণ্ন রাখার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছে। দলগুলো রাজ্যের জনগণকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *