।। এসএম জাহির আব্বাস ।।
১৪ সেপ্টেম্বর : দক্ষিণ করিমগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী ও চারবারের বিধায়ক সিদ্দেক আহমেদের উত্থান এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। একসময় প্রাক্তন মন্ত্রী মুক্তাদির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্নেহধন্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই রাজনৈতিক অভিভাবকের বিরুদ্ধেই প্রার্থী হয়ে তাঁকে পরাজিত করেন সিদ্দেক আহমেদ।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে মুক্তাদির চৌধুরীর সান্নিধ্যে থেকে রাজনীতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন সিদ্দেক আহমেদ। দক্ষিণ করিমগঞ্জের রাজনীতিতে তখন মুক্তাদির ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। তাঁর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই ধীরে ধীরে নিজের সংগঠন ও জনভিত্তি গড়ে তুলতে শুরু করেন সিদ্দেক।
তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নতুন সমীকরণের ফলে দু’জনের রাজনৈতিক পথ আলাদা হয়ে যায়। এরপর ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়ে ওঠে সিদ্দেক আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
সমতা দলের প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী মুক্তাদির চৌধুরী। রাজনৈতিক মহলে এই নির্বাচনকে দেখা হয়েছিল পুরনো রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের উত্থানের লড়াই হিসেবে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে জয়ী হন সিদ্দেক আহমেদ। মুক্তাদির চৌধুরীকে পরাজিত করে প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ করেন তিনি।
২০০১ সালের সেই জয়ই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পরবর্তীকালে দক্ষিণ করিমগঞ্জ থেকে আরও তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হন সিদ্দেক আহমেদ। বিভিন্ন সময়ে নির্দল ও কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজের শক্তিশালী জনভিত্তি তৈরি করে দক্ষিণ করিমগঞ্জের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মুখ হয়ে ওঠেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল রাজ্যের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি। তরুণ গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
জীবনের শেষ পর্যায়ে দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান সিদ্দেক আহমেদ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি কার্যত সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।
তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আজও দক্ষিণ করিমগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচিত। একসময় যাঁর ছায়ায় রাজনৈতিক হাতেখড়ি, পরবর্তীকালে সেই নেতাকেই নির্বাচনে পরাজিত করে নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সিদ্দেক আহমেদ। ২০০১ সালের সেই গুরু-শিষ্যের নির্বাচনী লড়াই তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।



