বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুলাই : রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, চলতি বন্যায় এ পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিবসাগরের এক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকার ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ স্বস্তিমূলক পদক্ষেপেরও ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কিং কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে যোরহাট ও শিবসাগর জেলায় মোট ব্যাঙ্ক ঋণের পরিমাণ ১১,৪০০ কোটি টাকা। যাঁদের ঋণ রয়েছে এবং যারা বন্যায় প্রকৃত ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ স্বস্তিমূলক প্রকল্প চালু করবে রাজ্য সরকার। ব্যাংক ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা যাচাই করার পরই এই সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এটি শুধুমাত্র স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
তিনি জানান, গৃহঋণ, শিক্ষাঋণ এবং গাড়ির ঋণের ক্ষেত্রে ৬ মাসের মরাটোরিয়াম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা এক বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। কৃষিঋণ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণের ক্ষেত্রেও ৬ মাসের মরাটোরিয়াম কার্যকর হবে এবং ঋণ শোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
এছাড়া এমএসএমই (MSME) ক্ষেত্রের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নাবার্ড ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সহায়তার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলি ক্ষুদ্র দোকানদারদের অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা ঋণ দেবে। এই ঋণের জন্য কোনও বন্ধক রাখতে হবে না। যাঁরা আগে থেকেই ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়েছেন, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৭ আগস্ট থেকে বন্যায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে দেওয়া ১৫ হাজার টাকা শুধুমাত্র অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নামঘরগুলিকে অসম দর্শন প্রকল্পের আওতায় অন্তর্বর্তীকালীন দেড় লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও কলেজগুলিকেও এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হবে।



