মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ সেপ্টেম্বর : প্রতি বছরের মতো এবারও মহাসমারোহে পালিত হতে চলেছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব। এই উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বাজারিছড়া শিববাড়ি প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের জোরদার প্রস্তুতি। উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বাজারিছড়া-সহ বৃহত্তর এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।
আগামীকাল শুক্রবার ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে দিনভর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, ভজন ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, অধর্ম ও অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই পবিত্র তিথিতেই মর্ত্যলোকে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে জন্মাষ্টমী একটি অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
এবারের অনুষ্ঠানসূচিতে থাকছে একাধিক আকর্ষণীয় কর্মসূচি। বিকেল ৪টায় বাজারিছড়া শিববাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে বের হবে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ছোট ছোট কন্যাশিশুরা গোপিনীর সাজে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেবে। খোল-করতাল এবং ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনিতে মুখরিত শোভাযাত্রাটি বাজারিছড়া ও কালাছড়া বাজার এলাকা পরিক্রমা করে পৌঁছাবে ঐতিহ্যবাহী বাজারিছড়া বারুণী ঘাটে।
বারুণীঘাট থেকে সুবর্ণ ঘটে পবিত্র গঙ্গাজল সংগ্রহ করে ভক্তরা পুনরায় শিববাড়ি প্রাঙ্গণে ফিরে আসবেন। প্রতিবছরের মতো এবারও গঙ্গাজল নিয়ে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
সন্ধ্যা ৮টা থেকে শুরু হবে ভক্তিমূলক ভজন ও নামসংকীর্তন। ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ। এরপর মধ্যরাতে শুভক্ষণে সংগৃহীত পবিত্র গঙ্গাজল দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহা অভিষেক করা হবে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে পূজার্চনা। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
জন্মাষ্টমী উৎসবকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বাজারিছড়া শিববাড়ি পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজার মূল বেদি দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাইকযোগে বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকার সকল সনাতনী ভক্তকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন তাঁদের শিশু কন্যাদের গোপিনীর সাজে সাজিয়ে আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে শিববাড়ি প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন।
আয়োজকদের আশা, শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান কেবল পূজা-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভক্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক মিলনমেলায় পরিণত হবে।



