৫ আগস্ট : বিনামূল্যে লেনদেনের দিন কি তবে শেষ হতে চলল? ভারতের ডিজিটাল লেনদেনের প্রধান হাতিয়ার ইউপিআই। এবার ইউপিআই পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সম্প্রতি সংসদে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এর সংশোধনী পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এটি আইনি ছাড়পত্র পেলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনের ওপর ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা ‘এমডিআর’ নামে এক ধরনের প্রসেসিং ফি বসাতে পারবে সরকার।
অবশ্য এখনই কোনও ফি চালু করা হচ্ছে না। একাধিক প্রতিবেদন মারফত জানা গিয়েছে, কীভাবে এই নতুন ফি হিসেব করা হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকারি স্তরে আলোচনা চলছে।
যেমন, বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের হলে ০.৩ থেকে ০.৫ শতাংশ এমডিআর বসানো হতে পারে।
যে সব ব্যবসায়ীর বার্ষিক বিক্রি দেড় কোটি টাকার বেশি, মূলত তাদের ওপরই এই ফি চাপানোর পরিকল্পনা চলছে।
ছোট ছোট দোকানের এখনই চিন্তার কারণ নেই। পাড়ার মোড়ের ছোট দোকান বা খুচরো বিক্রেতাদের ওপর যাতে কোনও বাড়তি চাপ না পড়ে, সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের এই ফি দিতে হবে না। তাদের জন্য পরিষেবা আগের মতোই বিনামূল্যে থাকছে।
বর্তমানে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে কেনাকাটা করলে ব্যবসায়ীদের ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত ফি দিতে হয়। ইউপিআই এত দিন এই চার্জের আওতামুক্ত ছিল। কিন্তু পেমেন্ট সংস্থাগুলির দাবি, বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে গিয়ে নতুন প্রযুক্তি আনা বা সব মিলিয়ে খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেন সংখ্যার দিক থেকে মাত্র ৪ শতাংশ হলেও, টাকার অঙ্কের হিসাবে এটি মোট ইউপিআই লেনদেনের প্রায় ৬৭ শতাংশ। এই অংশে ফি বসালে পেমেন্ট সংস্থাগুলির ঝুলিতে বছরে প্রায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ কোটি টাকার বাড়তি আয় আসতে পারে।
এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না৷ পুরোটাই এখন প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। ফি-র হার কত হবে বা আদৌ এই নিয়ম চালু হবে কি না- তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে আপাতত বিনামূল্যে ইউপিআই ব্যবহারে কোনও বাধা থাকছে না।



