বরাক তরঙ্গ, ৭ সেপ্টেম্বর : মহানগরীর বেলতলা বশিষ্ঠপুরে রিয়া তালুকদার নামে এক মহিলার হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় রিয়ার স্বামী রামানুজ গোস্বামীকে ঘিরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তবে রবিবার রাতে দিসপুর থানায় আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ। রিয়া তালুকদারকে নৃশংসভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে হাতিগাঁও থানায় রামানুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেহের একটি অংশ ফ্রিজের ভিতরে পলিথিনে রাখা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি দা এবং কয়েকটি মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের।
দেহের উদ্ধার হওয়া অংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে ফরেনসিক দল আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে।
জানা গেছে, রিয়া ফ্যান্সিবাজারের এসি মার্কেটের একটি বুটিকে কাজ করতেন। তাঁর স্বামী রামানুজ পেশায় উবের চালক। প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁরা বশিষ্ঠপুরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। রামানুজের আদি বাড়ি ধুবড়ির গৌরীপুরে এবং রিয়ার মায়ের বাড়ি গুয়াহাটির নুনমাটিতে।

প্রতিবেশীদের দাবি, শনিবার তাঁদের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছিল। তবে তাঁরা মূলত রামানুজের কণ্ঠস্বরই শুনতে পেয়েছিলেন। শনিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ তাঁকে শেষবার দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর তিনি ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যান বলে দাবি প্রতিবেশীদের।
রবিবার রাতে বেলতলা বশিষ্ঠপুরের ৪ নম্বর উপপথের ১৪ নম্বর বাড়ির ‘অঞ্জলি গৃহ’ বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে রিয়ার দেহ উদ্ধার হয়। এরপরই পুলিশ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধরে তদন্ত শুরু করে।
রামানুজের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তদন্ত শেষ হলে তা স্পষ্ট হবে।



