বরাক তরঙ্গ, ৬ অক্টোবর : শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন আগমনী উৎসবকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর হয়ে উঠল শিলচরের রাধামাধব কলেজ। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনকে স্বাগত জানিয়ে এদিন রাধামাধব কলেজ ছাত্র সংসদ দ্বারা আয়োজিত এই উৎসবে উপস্থিত সকলের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি প্রফেসর অনুপ কুমার দে ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অরুন্ধতী দত্ত চৌধুরী। এরপর সংগীত, নৃত্য, নাটক এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আগমনী উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে প্রচলিত আগমনী গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘চলো বদলাই’ মিউজিক্যাল ব্যাণ্ড পরিবেশিত সাংস্কৃতিক সংগীতানুষ্ঠান।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাধামাধব কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি ড. অনুপ কুমার দে তাঁর বক্তব্যে আগমনী উৎসবের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। রাধামাধব কলেজ পড়ুয়ারা অনেক সংস্কারিত এবং এই সংস্কার তারা পরিবার তথা নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে পেয়েছে তা শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি তাদের সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি কলেজ পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে বলেন আমরা পুজোর আনন্দ করবো ঠিকই, একই সঙ্গে আমাদের সবাইকে ভালভাবে পড়াশোনা করে প্রকৃত মানুষ হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে । শুধু তাই নয় ভাল কাজের মাধ্যমে সমাজে দাগ কেটে রেখে যেতে হবে, সমাজের জন্য আমাদের করণীয় অনেক কিছু বাকী রয়েছে এই মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। অনুপ বাবু আরও বলেন ভারতবর্ষের সংস্কৃতি ও পরম্পরা যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলো দেখা যায় যুব প্রজন্ম দেশকে দিশা দেখিয়েছে একথা উল্লেখ করে শঙ্করাচার্য্য ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তোমরা যারা আগামীদিনে যুব প্রজন্মের নেতৃত্ব দিতে চলেছো তোমাদের সবসময় একথা মাথায় রাখতে হবে যে এই সমাজ আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এবং সমাজের জন্য আমাদেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অরুন্ধতী দত্ত চৌধুরী সকল ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।উল্লেখ্য এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ ড. রাহুল চক্রবর্তী, আই.কিউ.এ.সি-র কো-অর্ডিনেটর ড. রাহুল শরনিয়া, ড. দেবাশিস রায়, ড.জীবন দাস, ড. কালীপদ দাস, ড. সোনালি চৌধুরী সহ ছাত্র সংসদের সভাপতি রুহিনী গোস্বামী, সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জয় সরকার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অম্পিত পাল, ম্যাগাজিন সম্পাদিকা সাক্ষী শর্মা সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আদ্রিজা দত্ত ও সৃষ্টি ভট্টাচার্য।



