২২ অক্টোবর : রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘ পথ চলার পর এবার সোশাল মিডিয়ার দুনিয়ায় নতুন অধ্যায় শুরু করলেন কংগ্রেস (Congress) নেত্রী সোনিয়া গান্ধি (Sonia Gandhi)। প্রথমবার ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মে পা রেখে নিজের বহুল প্রতীক্ষিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘বিলংঙ্গিং: এ জার্নি অফ লাভ’ (Belonging: A Journey of Love)-এর একটি বিশেষ ঝলক সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তিনি। নিজের প্রথম ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সোনিয়া লিখেছেন, সকলের সঙ্গে এই মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এটি মূলত ভালোবাসা, কর্তব্য, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং নিজের সঠিক ঠাঁই খুঁজে পাওয়ার একটি অনন্য গল্প। বইটির প্রকাশনা নিয়ে তিনি ভীষণভাবে উৎসুক বলেও জানিয়েছেন।
আসছে আগামী ১০ নভেম্বর তারিখে বিশ্বজুড়ে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ৫৪৪ পাতার এই পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিকথাটি। আন্তর্জাতিক স্তরে এই বইটির প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ. কনফ (Alfred A. Knopf), অন্যদিকে দেশের মাটিতে বইটি প্রকাশ করছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া (HarperCollins India)। ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক ১৯ বছরের তরুণী সোনিয়া মাইনোর সঙ্গে রাজীব গান্ধির পরিচয়ের মধ্য দিয়েই এই স্মৃতিকথার সূচনা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর সুদূর ইতালি ছেড়ে ভারতে এসে এক সম্পূর্ণ নতুন জীবনের পথচলা শুরু করেন তিনি।
প্রকাশকের বিবরণী অনুযায়ী, এই আত্মজীবনীতে ইতালির চেনা পরিবেশ থেকে এক লাফে ভারতের প্রভাবশালী নেহেরু-গান্ধি পরিবারে প্রবেশের রোমাঞ্চকর রূপান্তর ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর সান্নিধ্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চিত্রও এতে তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি বইটিতে ১৯৮০ সালে বিমান দুর্ঘটনায় সঞ্জয় গান্ধি, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধি এবং ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মতো ব্যক্তিগত বিপর্যয় ও অপূরণীয় ক্ষতির কথা গভীর আবেগের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

পরিবার সম্পর্কে আগে কিছু লেখালেখি করলেও, এই নতুন স্মৃতিকথাটিকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে খোলামেলা ও অন্তরঙ্গ দলিল হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর আগে আলফ্রেড এ. কনফের তরফে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধি জানিয়েছিলেন যে তাঁর পরিবারকে নিয়ে প্রচুর চর্চা হলেও পরিবারের সদস্যদের আসল প্রণোদনা, কাজকর্ম এবং মানবিক ত্রুটিগুলো খুব কম সাহিত্যেই সঠিকভাবে উঠে এসেছে। তাঁর নিজের ভাষায়, বুকভাঙ্গা যন্ত্রণা এবং গভীর শূন্যতাই তাঁকে রাজনীতির জনসমুদ্রে টেনে এনেছিল, যদিও এর আগে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় কঠোর গোপনীয়তায় ঢেকে রেখেছিলেন।
গত ছয় দশকে ভারতে ঘটে চলা বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকা সোনিয়া গান্ধি এই বইটিকে শুধুমাত্র প্রেম ও পরিবারের ব্যক্তিগত গল্প হিসেবেই নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক যাত্রাপথের এক অন্দরমহলের দলিল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই বইটির ভারতীয় প্রকাশনা অধিকার নিয়ে শুরুর দিকে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (Penguin Random House India) এই বইটি প্রকাশ করার কথা থাকলেও, খসড়া পাণ্ডুলিপির কিছু নির্দিষ্ট অংশ ছেঁটে ফেলা ও সম্পাদনা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় চুক্তি এগোয়নি।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাণ্ডুলিপির খসড়ায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত কিছু নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি ও পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা লেখকের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া হয়নি। যদিও পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া লেখকের আপত্তির জেরে সরে দাঁড়ানোর দাবি অস্বীকার করে জানায় যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পারস্পরিক ঐকমত্য না পৌঁছানোর কারণেই আলোচনা থমকে যায় এবং এর নেপথ্যে কোনো বহিরাগত রাজনৈতিক চাপ ছিল না। পরবর্তীতে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া এই বইটির স্বত্ব লাভ করে এবং আন্তর্জাতিক সংস্করণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী ১০ নভেম্বর তারিখেই এটি ভারতীয় বাজারে আনা হবে বলে জানিয়ে দেয়।



