পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২১ মে : ভাষা শহিদ দিবসে প্রকাশিত হল মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতির সাহিত্য সাময়িকী ‘মাতৃভাষা’-এর ৩৮তম সংখ্যা। এদিন উন্মোচন অনুষ্ঠান সহ প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ১৯ মে ভাষা শহিদ দিবস তথা মাতৃভাষা সুরক্ষা দিবস পালন করল মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতি, কাছাড় জেলা। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সকালে সমিতির সদস্যরা শিলচর রেল স্টেশনে অবস্থিত ভাষা শহিদ স্মারকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে শিলচর শ্মশানঘাটে দ্বাদশ ভাষা শহিদের শহিদ বেদিতেও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।
সকাল ১১টা থেকে গান্ধীবাগ সংলগ্ন অস্থায়ী কৃষ্ণচূড়া মঞ্চে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অস্থায়ী শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ কুমারকান্তি দাশ (লক্ষ্মণ), কবি-সাহিত্যিক অতীন দাশ, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী হারাণ দে, প্রাক্তন সভাপতি মিহিরলাল রায়, উপদেষ্টা অঞ্জু এন্দো, সহ-সভাপতি হোসেন আহমদ লস্কর, জেলা সভাপতি সুনীল রায়, সাধারণ সম্পাদক সানি ভট্টাচার্য-সহ বহু সদস্য ও অতিথি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কবি অতীন দাশ বলেন, “শুধু বছরে একদিন শহিদ স্মরণ করলেই হবে না, ভাষিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সারা বছর লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছে মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতি।” তিনি মাতৃভাষা রক্ষায় অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভাপতি সুনীল রায় তাঁর বক্তব্যে অসম ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালিদের প্রতি বৈষম্য, ঘৃণা ও নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হলেও এখনও বাংলা ভাষা রাজ্যভাষার মর্যাদা পায়নি। পাশাপাশি বরাক উপত্যকার ভাষা শহিদদের পরিবার এখনও সরকারি স্বীকৃতি ও আর্থিক সম্মাননা থেকে বঞ্চিত বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্য বিধানসভায় ভাষা আন্দোলনে নিহত ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তাঁদের পরিবারকে এখনও শহিদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এছাড়া শিলচর রেল স্টেশনের নাম “ভাষা শহিদ স্টেশন শিলচর” করার কেন্দ্রীয় নির্দেশ দীর্ঘদিন ধরেও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে কাছাড়, শ্রীভূমি, হাইলাকান্দি ও হোজাই জেলায় মণিপুরি ভাষাকে অতিরিক্ত সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুনীল রায় বলেন, অন্যান্য ভাষিক সংখ্যালঘুরাও দাবি তুললে সমিতি তাদের পাশে থাকবে।
দিনভর অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও পথনাটকের আয়োজন করা হয়। করাসের শিল্পীদের পরিবেশিত পথনাটকে আসাম-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হলে উপস্থিত দর্শকরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনুষ্ঠানে কবি জয়ন্তী দত্তের ‘রক্তে লেখা উনিশে মে’ এবং স্বাগতা চক্রবর্তীর সম্পাদিত ‘কল্পতরু’ বইয়েরও উন্মোচন করা হয়।
দুপুরে গান্ধীবাগের মূল শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



