বরাক তরঙ্গ, ২৬ আগস্ট : গরু আটককে কেন্দ্র করে বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কৈলাসহর-ধর্মনগর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ভগবাননগর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিএসএফের হাতে কয়েকটি গরু আটক হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে জওয়ানদের বচসা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে পৌঁছায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন বাসিন্দা গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভগবাননগর এলাকায় বিএসএফ তাদের আটক করে। গরুগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এ নিয়েই স্থানীয়দের সঙ্গে বিএসএফের তীব্র বচসা শুরু হয়।
অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএসএফ স্থানীয়দের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে মাগুরউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আহমদ আলি গুরুতর আহত হন। তাঁর মাথা ও কানে মোট ছয়টি সেলাই পড়েছে। পাল্টা স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধেও বিএসএফকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএসএফ ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা পিছিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এদিকে আহত আহমেদ আলি বর্তমানে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অভিযোগ, গাড়ি সারাই করিয়ে ধর্মনগর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভগবাননগরে বিএসএফ তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভগবাননগর এলাকা ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে যথেষ্ট দূরে। তাই এলাকার বাসিন্দাদের গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা অযৌক্তিক। আটক গরুগুলির মালিকানা যাচাই করে প্রকৃত মালিকদের কাছে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিরীহ বাসিন্দাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
পরে ওসি তাপস মালাকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এরপর অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।



