
১ নভেম্বর : যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই দিনের একটি পরিকল্পনার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় চালুর বিষয়ে কথা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে তেহরানের আলোচনা চলছে বলে জানান আরাগচি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য ইরান আগে যে শর্তগুলো দিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েই এখন আলোচনা হচ্ছে।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসিন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পড়েছেন। তাঁর দাবি, চিঠিতে ওয়াশিংটনের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

এর আগে সেপ্টেম্বরে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেছিল। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং জুনে সমঝোতার অংশ হিসেবে দেওয়া তেল রপ্তানির ছাড় পুনর্বহাল।
এ ছাড়া কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সব অর্থ ও জব্দ করা তহবিল মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরান ও ওমানের নির্ধারিত হরমুজ প্রণালির নতুন জাহাজ চলাচলের পথকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্য পথগুলো বন্ধ রাখার শর্তও রয়েছে তাদের তালিকায়।

ইরান সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ইজরায়েলের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা বন্ধের দাবিও রয়েছে।
ইরানের এসব শর্ত নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো মেনে নিয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



