বরাক তরঙ্গ, ২৮ অক্টোবর : জমি বিক্রির জন্য অনাপত্তিপত্র বা এনওসি চেয়ে কাছাড়ের জেলা কমিশনারের কাছে আবেদনকে কেন্দ্র করে শিলচর জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কংগ্রেস কমিটির নাম ব্যবহার করে জমি বিক্রির অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। ইতিমধ্যে বিষয়টি প্রদেশ কংগ্রেসের নজরে আসায় জেলা সভাপতি সজল আচার্যকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা কংগ্রেসের বিষয়ে তাঁর সমস্ত কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিলচরের পার্ক রোডে অবস্থিত ১০ কাঠা জমি বিক্রির জন্য এনওসি চেয়ে জেলা কমিশনারের কাছে আবেদন জানানো হয়। আবেদনে জমিটির পূর্ব দিকে রাজীব ভবন, পশ্চিমে অসম সাহিত্য সভা, উত্তরে পূর্ত সড়ক অর্থাৎ পার্ক রোড এবং দক্ষিণে মায়া সোনার অবস্থান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্রেতা হিসেবে শিলচর জেলা কংগ্রেস কমিটির নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে জেলা সভাপতি সজল আচার্যের নাম রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রেতা হিসেবে শহরের এন এন দত্ত রোডের বাসিন্দা জয়কুমার সাহার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা কংগ্রেসের বিভিন্ন মহলের বক্তব্য, পার্ক রোডেই রয়েছে দলের জেলা কার্যালয় ইন্দিরা ভবন। ফলে আবেদনে জমির যে সীমানা উল্লেখ করা হয়েছে, তা দেখে জমিটি কংগ্রেসের সম্পত্তি কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না দলের অনেকেই। তবে আবেদনে জেলা কংগ্রেস কমিটিকে বিক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করায় জমিটির সঙ্গে দলের কোনও না কোনও সম্পর্ক রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

দলীয় সূত্রের বক্তব্য, জমিটি কার মালিকানাধীন, তা পৃথক বিষয়। পার্ক রোডে সজল আচার্যের ব্যক্তিগত জমি থাকলে তা বিক্রির জন্য আবেদন জানাতে তাঁর কোনও বাধা নেই। এমনকী অন্য কারও জমির প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি আবেদন করতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয়ে আবেদন জানানো উচিত। জেলা কংগ্রেস কমিটির নাম এবং সভাপতি হিসেবে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে এমন আবেদন জানানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা কংগ্রেসের একাংশের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত অনিয়মের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, জমি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে তাঁরা এতদিন নিশ্চিত হতে পারেননি। এবার জেলা কংগ্রেস কমিটির নাম ব্যবহার করে এনওসির আবেদন সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের একাংশ। পরিস্থিতি ঘিরে আগামী দিনে জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরে আরও উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রশাসনিক একটি সূত্রের খবর, জেলা কংগ্রেস কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে সজল আচার্যের নামে এনওসি চেয়ে আবেদন জমা পড়ার পর তা পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য ভূ-সম্পদ বিভাগের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিষয়টি প্রদেশ কংগ্রেসের নজরে আসার পর প্রদেশ সভাপতি গৌরব গগৈয়ের নির্দেশে মঙ্গলবার রাতেই সজল আচার্যকে শোকজ করা হয়। প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) বিপুল গগৈ স্বাক্ষরিত চিঠিতে শোকজ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট, পূর্ণাঙ্গ ও সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।
জেলা কংগ্রেস কমিটির সম্পত্তির যথাযথ সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং কথিত অনিয়মের অভিযোগে কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবিলম্বে কার্যকরভাবে শিলচর জেলা কংগ্রেস কমিটির বিষয়ে সজল আচার্যের সমস্ত কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা খর্ব করার কথা শোকজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।



