১২ জুন : কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বড় ধরনের হামলায় বেশ কয়েকজন মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার চালানো এই হামলায় বিমানবন্দরের প্রধান রাডার স্টেশন ও বিমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার পরপরই কুয়েত কর্তৃপক্ষ দেশটির একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমা বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ বহাল থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছে কুয়েত। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানবন্দরের রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিমান পরিচালনা ব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার সময় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং শত্রুভাবাপন্ন কয়েকটি আকাশযানকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই ঘটনার পর কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হামলাটিকে একটি পরিকল্পিত ও জঘন্য আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর এ ধরনের হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।



