১৪ জুন: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন না করায় শনিবার শহরের হাবিমা স্কয়ারে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে হামলায় নিহত ও জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা অংশ নেন। তারা সরকারের সমালোচনা করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন আয়ালা মেটজগার। তাঁর ৮০ বছর বয়সী শ্বশুর ইয়োরাম মেটজগারকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সদস্যরা অপহরণ করে গাজায় নিয়ে যায়। পরে বন্দিদশায় তাঁর মৃত্যু হয়। আয়ালা বলেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা রয়ে গেছে। সত্য উদঘাটনের স্বার্থে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন জরুরি। তিনি জানান, ইজরায়েলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনকে সর্বোচ্চ অনুসন্ধানী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধান বিচারপতির মনোনীত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ ধরনের কমিশন গঠিত হয়। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকারের প্রস্তাবিত বিকল্প তদন্ত কাঠামোয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এরান লিটম্যান। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর নোভা সংগীত উৎসবে হামলায় নিহত ২৬ বছর বয়সী ওরিয়া লিটম্যানের বাবা তিনি। মেয়েকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং দেশজুড়ে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে সরকারের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এরান লিটম্যান বলেন, জাকা উদ্ধার সংস্থার হারেদি স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁর মেয়ের মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারসমর্থক কর্মী হাদার মাখতার সমাবেশের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁর সঙ্গে এক সরকারবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মীর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং দুজনকেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক বা অভিযুক্ত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। হামলার আগে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্তের দাবি উঠলেও স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মতবিরোধ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।



