২৯ জুলাই : জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল দিনরাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলেন, জীবিতদের উদ্ধার করাই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী কম্পনের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে পরবর্তী কয়েক দিন আফটারশকের আশঙ্কায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো প্রিফেকচার। কাশিমা শহরের একটি বহুতল বিপণিবিতানের দ্বিতীয় তলার অংশ ধসে পড়ে বহু মানুষ আটকা পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের পর গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণের জেরে ভবনটির অংশবিশেষ ধসে পড়ে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করলেও এখনও কয়েকজনের সন্ধান মেলেনি।

এদিকে, নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়াতসুশিরো কারখানার একটি বিশাল চিমনি ধসে কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে ফাটল, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ৩৬ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং কয়েকটি হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে।
জাপানের দমকল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, কুমামোতো ও আশপাশের এলাকা থেকে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সরবরাহ করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে কিউশু অঞ্চলের রেল ও বিমান যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া টয়োটা, হোন্ডাসহ কয়েকটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।
সরকার জানিয়েছে, আশপাশের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিকতা বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস এবং সম্ভাব্য পরবর্তী ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়’-এর ওপর অবস্থিত। ২০১৬ সালে একই কুমামোতো অঞ্চলে সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। নতুন এই ভূমিকম্প সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।



