বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : পাহাড় লাইনে বারবার রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়া এবং প্রতিবছর এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠায় বর্তমান রেলপথের উপর চাপ কমাতে ও বরাক উপত্যকার যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুগম করতে দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এই দাবিতে আন্দোলনে নামল শিলচর-লামডিং ব্রডগেজ রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি।
দ্বিতীয় রেলপথের কাজ অবিলম্বে শুরু করার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ২৯ আগস্ট হাইলাকান্দি রেলস্টেশনে, ৩০ আগস্ট করিমগঞ্জ রেলস্টেশনের সামনে এবং ৩১ আগস্ট শিলচর রেলস্টেশনের সামনে ধরনা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সোমবার শিলচর রেলস্টেশনের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকরা অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে সংগ্রাম কমিটির অন্যতম আহ্বায়ক অধ্যাপক অজয় রায় আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকেই ব্রডগেজ রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি রেল পরিষেবা নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। পাহাড় লাইনের ভৌগোলিক ও মাটির বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কেও তাঁরা অবগত। ২০১৫ সালে ব্রডগেজ পরিষেবা চালু হওয়ার পর ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর হাইলাকান্দির রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত গণঅভিবর্তনে চন্দ্রনাথপুর-লঙ্কা দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণের দাবি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছিল।

অধ্যাপক রায় আরও জানান, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর দ্বিতীয় রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য রেল বিভাগ অর্থ বরাদ্দ করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শিলচরের গান্ধী ভবনে আয়োজিত গণসমাবেশ থেকেও দ্বিতীয় রেলপথের সার্ভে রিপোর্ট প্রকাশ, ডিপিআর প্রস্তুত এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানানো হয়।
তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে নতুন রেলপথ হিসেবে লঙ্কা-ময়নারবন্দ রুটের সার্ভে করা হয়েছে এবং ডিপিআর রেল বোর্ডে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও রেল বোর্ড ও সংসদের অনুমোদন মেলেনি।
অজয় রায় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বরাক উপত্যকার স্বার্থে দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই রেলপথটি লংকা-চন্দ্রনাথপুর না লংকা-ময়নারবন্দ—এই বিতর্কে না গিয়ে আপাতত অবিলম্বে দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণের দাবিতেই আন্দোলন চালিয়ে যাবে সংগ্রাম কমিটি। পরবর্তীতে সঠিক রুট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।
কর্মসূচিতে প্রবীণ শিক্ষক মলয় ভট্টাচার্য, ডিএসএ সম্পাদক অতনু ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী পীযূষ চক্রবর্তী, শ্রমিক নেতা মৃণালকান্তি সোম, সাংস্কৃতিক কর্মী প্রদীপ নাথ ও সরল পাল-সহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সুব্রতচন্দ্র নাথ, হরিদাস দত্ত, ভবতোষ চক্রবর্তী, মধুসূদন কর, সত্যজিৎ গুপ্ত, দিলীপ নাথ, অঞ্জন চন্দ, পরিতোষ ভট্টাচার্য, দীপক দাস এবং নাট্যকর্মী সন্তোষ চক্রবর্তী-সহ বহু আন্দোলনকারী।
বিক্ষোভ কর্মসূচির শেষে আহ্বায়ক অজয় রায় আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।



