বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা হাসপাতালের প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক কল্যাণ চক্রবর্তীকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহ শহরের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ তাঁর মরদেহ শিলচরের মেহেরপুরে কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রিয় সহকর্মীকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত হন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল সোসাইটির কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শহরের বিশিষ্ট নাগরিকরা। মরদেহ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অনেকেই। হাসপাতালের ডিরেক্টর পদ্মশ্রী ডাঃ রবি কান্নান-সহ বহু চিকিৎসক ও কর্মীকে চোখের জলে প্রয়াত সহকর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা ও অগ্রগতিতে কল্যাণ চক্রবর্তীর দীর্ঘদিনের অবদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন উপস্থিত সকলে।

এদিন কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল সোসাইটির কর্মকর্তা মৃদুল মজুমদার, ডাঃ রবি কান্নান, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সমিতির সম্পাদক উত্তম সাহা, কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিলন উদ্দিন লস্কর ও শান্তনু দাস প্রয়াতের মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও খোঁজ সামাজিক সংস্থার পক্ষে সজল লস্কর ও কামাল লস্কর, হৃদয় সামাজিক সংস্থার সম্পাদক কৃষ্ণকংস বনিক, কোষাধ্যক্ষ রাতুল ভট্টাচার্য-সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অন্তিম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

হাসপাতাল চত্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ পুনরায় কাটিগড়ার নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
একজন শিক্ষক, সমাজসেবী এবং কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কল্যাণ চক্রবর্তীর অবদান বরাক উপত্যকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে এক নিষ্ঠাবান সমাজকর্মীকে হারাল বরাক উপত্যকা।

উল্লেখ্য, আজ, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় নিজ কাটিগড়ার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কল্যাণবাবু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। রেখে গেছেন স্ত্রী, তিন পুত্র, তিন পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি-সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণমুগ্ধ ও শুভানুধ্যায়ী।



