দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী পালিত
দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৫ জুলাই : সাংবাদিক ও সমাজচিন্তক তাজ উদ্দিন বড়ভূইয়ার দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার শিলচর প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বরাক উপত্যকার উন্নয়নের জন্য ঘোষিত বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বরাক উপত্যকার উন্নয়ন ও সংবাদমাধ্যম’। বক্তাদের মতে, মহাসড়ক, অন্যান্য সড়কপথ, রেল যোগাযোগ, মাল্টি-মডেল লজিস্টিক পার্ক, যাদুঘর, চিড়িয়াখানা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পর্যটন ও শিল্প সংক্রান্ত ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে এখনও কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে জেলাভিত্তিক নিয়োগের পরিসংখ্যান প্রকাশের দাবিও ওঠে।
স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তারা তাজউদ্দিন বড়ভূঁইয়ার নিষ্ঠা, সততা ও কর্মময় জীবনের কথা তুলে ধরেন। লেখিকা ও সমাজকর্মী আরতি দাশ বলেন, তাজউদ্দিন বড়ভূঁইয়া ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও উদার মনের মানুষ। সংবাদপত্র প্রকাশনার কাজে তিনি সবসময় নতুনদের উৎসাহ দিতেন। তাঁর অকাল প্রয়াণ এখনও মেনে নেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। শিলচর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শংকর দে বলেন, বরাক উপত্যকার তিন জেলায় ঘোষিত বহু প্রকল্পের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। কোথাও কাজ বন্ধ, কোথাও শুরুই হয়নি, আবার কোথাও অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। তিনি দ্রুত প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সাংবাদিকতায় তাজউদ্দিন বড়ভূইয়ার সততা ও নিষ্ঠাকে অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করেন।
গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক অশোককুমার দেব বরাকের ভগ্নদশাগ্রস্ত সড়ক, দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত নির্মাণের সমালোচনা করে বলেন, টেকসই রাস্তা নির্মাণে বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনার প্রয়োজন। নাগরিকদেরও আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজকর্মী ও রাজনীতিক সুজিতকুমার দেব বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে বরাকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ঘোষিত অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য বরাকে পর্যটন শিল্পের বিকাশে জোর দেন এবং আটকে থাকা প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন।
এছাড়া কবি-সমাজকর্মী শতদল আচার্য, কবি-সাংবাদিক স্মৃতি পাল নাথ, সাংবাদিক বিশ্বকল্যাণ পুরকায়স্থ, রাজু দাস, সমাজকর্মী মধুমত্তমা দাস কানুনগোসহ একাধিক বক্তা তাজ উদ্দিন বড়ভূইয়ার কর্মজীবন ও সাংবাদিকতায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বরাক নাগরিক সংসদের উদ্যোগে ‘তাজউদ্দিন বড়ভূঁইয়া স্মারক সাংবাদিকতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয় ‘বরাকবাণী’-র সম্পাদক নিখিল দাশকে। সাংবাদিকতায় দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, উৎকর্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক, সনদপত্র, সম্মাননা স্মারক, কলম ও অর্থমূল্য প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণ করে নিখিল দাশ বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে এসেছেন। এই সম্মাননা তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল এবং ভবিষ্যতের পথচলায় এটি তাঁকে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বিশিষ্ট শিল্পী রাজদীপ চৌধুরী রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিতদের মুগ্ধ করেন।



