বরাক তরঙ্গ, ১৯ আগস্ট : কাছাড় সফরে এসে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো জেলার মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। বুধবার জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষায় আইনি সুরক্ষাগুলি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
বৈঠকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন, শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ, কিশোর বিচার ব্যবস্থা, মানব পাচার প্রতিরোধ, প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পঞ্চায়েত ও স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলির আধিকারিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেন এনএইচআরসি সদস্য।
বৈঠকে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রিয়াঙ্ক কানুনগো নির্দেশ দেন, বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এবং কারাগারে বন্দি ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক ব্যক্তিকে আয়ুষ্মান কার্ডের সুবিধার আওতায় আনতে হবে। যেসব প্রবীণ ব্যক্তির প্রয়োজনীয় আধার কার্ড নেই, তাঁদের জন্য আধার তৈরির ব্যবস্থাও দ্রুত করার নির্দেশ দেন তিনি। মানবাধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিষেবাগুলি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
শিশু সুরক্ষা ও কিশোর বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মানব পাচার রোধ, দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তামূলক প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শেষে কাছাড় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রিয়াঙ্ক কানুনগো। তিনি মানবাধিকার রক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নে প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা বিভাগ, জেল বিভাগ, জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, পঞ্চায়েত, নগর সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মানবাধিকার সুরক্ষা ও সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।



