বরাক তরঙ্গ, ২১ এপ্রিল : ত্রিপুরায় উদ্বোধন হল চিন্ময়ী মন্দির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মন্দিরের উদ্বোধন করেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল জিষ্ণু কুমার দেববর্মণ, রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু এবং মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা-সহ একাধিক বিশিষ্ট নেতা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ভাষণে মোহন ভাগবত বলেন, “জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য শুধু ভাষণে সীমাবদ্ধ নয়, প্রকৃত জ্ঞান হল বোধের মধ্যে নিহিত। গত দুই হাজার বছর ধরে বিশ্ব নানা মতবাদ বিজ্ঞান থেকে সমাজতন্ত্র—নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে। কিন্তু আজ বিশ্ব উপলব্ধি করছে, সমগ্র মানবজাতির প্রয়োজন ভারতের জীবনদৃষ্টি ও সনাতন ধর্মের পথনির্দেশ।” তিনি মন্দিরের সামাজিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এটি মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। বর্তমান সময়ে শক্তির পাশাপাশি ভক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “ভারতের এই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে বহিরাগত শক্তি সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এদিন চিন্ময় মিশনের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এক জাতীয়তাবাদী ও আধ্যাত্মিক আলোচনাসভা। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সূচনায় ত্রিপুরার রাজমাতা বিভুকুমারী দেবী দেশের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও মাতৃভূমি একটাই—ভারতবর্ষ।” তিনি প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে ভারতমাতার প্রতি আত্মনিবেদনের আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা তাঁর বক্তব্যে মোহন ভাগবতের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মন্দিরের নান্দনিক স্থাপত্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই মন্দির শুধু ত্রিপুরা নয়, সমগ্র দেশের মানুষের কাছে আধ্যাত্মিকতার এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে।” পাশাপাশি চিন্ময়া হরিহরা বিদ্যালয়ের বিনামূল্যে শিক্ষাদানের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে রাজ্য সরকারের তরফে সর্বতো সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।



